আগামীকাল শুক্রবার থেকে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে শুরু হতে যাচ্ছে প্রথম দফার তিন দিনের বিশ্ব ইজতেমা। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ডাকা দেশব্যাপী লাগাতার অবরোধ আর কতদিন চলবে, তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার জন্য অবরোধ স্থগিত বা শিথিল করা হবে কি-না— এ ব্যাপারে গতকাল বুধবার পর্যন্ত দলটির আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। দলটির নেতারাও এ ব্যাপারে কেউ কিছু জানেন না।
বিএনপির দায়িত্বশীল কয়েক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, এ বিষয়টি সরাসরি দলের চেয়ারপারসনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে তাবলিগ জামাতের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানোর পর বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন। আজ বৃহস্পতিবার এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার গতকাল ইত্তেফাককে বলেছেন, ইজতেমার সময় অবরোধ থাকবে কি থাকবে না, এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। তবে বিষয়টি নির্ভর করছে সরকারের ওপর। আমরা তো সভা-সমাবেশের অনুমতি চাচ্ছি। সরকার তা করতে দিলেই তো পারে। সুতরাং আমি মনে করি, ইজতেমার সময় অবরোধ বহাল থাকা না থাকার বিষয়টি বরং সরকারের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।
বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমকে বলেছেন, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেয়া পর্যন্ত সারাদেশে সর্বাত্মক অবরোধ চলবে। সোমবার খালেদা জিয়া যখন এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন-তখন তিনিও ইজতেমার সময় অবরোধ রাখা না রাখার বিষয়ে কিছুই বলেননি। তবে ওইদিনই রুহুল কবির রিজভী ব্যক্তিগতভাবে সাংবাদিকদের ফোন করে ও এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ‘ইজতেমার পরিবহন ও এর যাত্রীরা অবরোধের আওতামুক্ত থাকবে।’
বিশ্ব ইজতেমার সময় যেন অবরোধ কর্মসূচি রাখা না হয়, সেই অনুরোধ জানাতে মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে গিয়েছিলেন তাবলিগের একটি প্রতিনিধি দল। কাকরাইল তাবলিগ মসজিদের মাওলানা আব্দুর রহিম নকীবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই প্রতিনিধি দলটি ইজতেমার সময় অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত রাখতে বিএনপি চেয়ারপারসনকে তার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাসের মাধ্যমে অনুরোধ জানান। এছাড়া মাওলানা ইফতেখার আহমেদের নেতৃত্বে দুই সদস্যের আরেকটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার সেখানে গেলেও পুলিশ তাদেরকে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি। তারাও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ইজতেমার সময় অবরোধ না রাখার অনুরোধ এবং ইজতেমায় যোগদানের আমন্ত্রণ জানাতে এসেছিলেন তারা।
খালেদা জিয়া এখনও নিজ অফিসে
শনিবার রাত আটটা ২০ মিনিটে গুলশানে নিজ কার্যালয়ে আসার পর থেকে খালেদা জিয়া এখন পর্যন্ত সেখানেই রয়েছেন। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় ঢাকার বক্শীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসায় স্থাপিত আদালতে গতকাল হাজিরার দিন থাকলেও তিনি যাননি। বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গতকালও স্বাভাবিকভাবেই ভেতরে-বাইরে যাতায়াত করতে পেরেছেন।
‘খালেদা জিয়ার কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে’
দলীয় কোনো নেতা-কর্মী দেখা না করলেও গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহফুজউল্যাহ। পুলিশের অনুমতি নিয়ে সকাল সাড়ে ১১টায় খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে যান মাহফুজউল্যাহ। বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দুপুর আড়াইটার দিকে বের হয়ে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপি প্রধান অত্যন্ত অসুস্থ, তার কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে, তবে তার মনোবল আগে যেমন শক্ত ছিল-এখনও সেরকমই আছে। তিনি দেশবাসীসহ সকলের দোয়া চেয়েছেন।’
এছাড়া ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর সভাপতি প্রফেসর আ.ফ.ম ইউসুফ হায়দারের নেতৃত্বে ঢাবি শিক্ষকদের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল দুপুর সোড়া ১২টার দিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে যান। প্রবেশ করা নিয়ে বেশকিছুক্ষণ বিতর্কের পর পুলিশ ছয়জনকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেয়। সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আহমেদ।
বাসার নাস্তা ও খাবার খাচ্ছেন
নিজ কার্যালয়ে গত সাড়ে চারদিন ধরে কার্যত অবরুদ্ধ খালেদা জিয়া নিয়মিত বাসার খাবারই খাচ্ছেন। প্রতিদিন সকালের নাস্তা নিজের বাসা থেকে এলেও দুপুর ও রাতের খাবার আসছে ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারের বাসা থেকে। তার স্ত্রী কানিজ ফাতিমা দিনে একবার এসে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে যাচ্ছেন। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দলের দুই সদস্য গতকাল সকাল ১০টার দিকে তার গুলশানের বাসা থেকে নাস্তা নিয়ে কার্যালয়ে যান।
গেটের বাইরে পুলিশ-তালা বহাল
খালেদা জিয়া গতকাল কার্যালয় থেকে বের হওয়ার চেষ্টা না করলেও বাইরে কয়েক স্তরের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহাল রেখেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে কার্যালয়ের মূল ফটকের বাইরে পুলিশের লাগানো তালা গতকালও খোলা হয়নি।
