৩৪তম বিসিএসের ফল নিয়ে পরীক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ

আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৫, ০১:৩১

৩৪তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) লিখিত পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন পরীক্ষার্থীরা। ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ৩৪তম বিসিএস লিখিত ফলাফলে অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা। তারা লিখিতভাবে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পিএসসির প্রকাশিত লিখিত পরীক্ষার দুই দফার ফলাফলই দুর্নীতি ও অনিয়মযুক্ত এবং বিধিবর্হিভূত। তাই অবিলম্বে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছ ও বিধি আরোপিত পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশের দাবি তুলেছেন তারা।

পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে এ বিষয়ে পিএসসির চেয়ারম্যান ইকরাম আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, যথাযথভাবেই বিধি মেনে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এই ফলে ত্রুটি থাকার কোন সুযোগ নেই। বিচার-বিশ্লেষণ করেই দ্বিতীয়বার ফলাফল সংশোধন করেছে কমিশন। 
গত সোমবার ৩৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মিরন, হাসিবুল ইসলাম, রাতুল আহমেদ, সুমন আহমেদ, আবদুল্লাহ-আল-ইমরান ও আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে পিএসসির প্রকাশিত ফলাফলকে ত্রুটিপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তারা বলেছেন, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অধীনে বিসিএস পরীক্ষা ২০১৩-এর বিজ্ঞপ্তির ২৫ নং বিধিতে বলা আছে, ‘লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর গড়ে ৫০ শতাংশ, মৌখিক পরীক্ষার পাস নম্বর ৪০ শতাংশ। লিখিত পরীক্ষার কোন বিষয়ে ২৫ শতাংশের কম নম্বর পেলে তিনি উক্ত বিষয়ে কোন নম্বর পাননি বলে গণ্য করা হবে। কেবল লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরাই মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্য হবেন।’
এতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, লিখিত পরীক্ষায় গড়ে ৫০ শতাংশ নম্বর পেলে একজন পরীক্ষার্থী মৌখিক পরীক্ষার জন্য যোগ্য হবে। কিন্তু কমিশন কর্তৃক এ বিধি মেনে ৩৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। এ বিধিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে। এ কারণে অনেক প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় গড়ে ৫০ শতাংশ নম্বর পেয়েও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
পিএসসি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পরীক্ষার্থীদের দাবি, কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ২৫নং বিধি অনুযায়ী উত্তীর্ণ প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় (প্রায় ১৭ হাজার) মৌখিক পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতার অজুহাত দেখিয়ে অনেক প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া খাতার লিথোকোড বিভ্রান্তির কারণে লক্ষাধিক খাতার ফলাফল নিরীক্ষণে অস্বচ্ছতা সৃষ্টিরও অভিযোগ রয়েছে।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত দ্বিতীয় দফার ফলাফলে উত্তীর্ণ ১৪৪ জন পরীক্ষার্থীর বৈধতার প্রশ্নেও অস্বচ্ছতা রয়েছে। এছাড়া ৯৫৩ জন পরীক্ষার্থীর ক্যাডার পরিবর্তনের বিষয়টিও রীতিমত বিভ্রান্তিকর ও অনিয়মযুক্ত। সংক্ষুব্ধ প্রার্থী হিসেবে তারা পুনরায় স্বচ্ছ ও বিধি আরোপিত পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
গত ১৮ ডিসেম্বর ৩৪তম বিসিএসের যে লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছিল তা বিধিসম্মত ছিল না। প্রথমবারে ওই ফলাফলে উত্তীর্ণ হয় ৯ হাজার ৮২২ জন। এর মধ্যে সাধারণ ক্যাডারে ৫৯২২ জন, সাধারণ এবং কারিগরি/পেশাগত ক্যাডারে ২০৯৬ ও শুধু কারিগরি/পেশাগত ক্যাডারে ১৭৮০ জন উত্তীর্ণ হয়। আর ফলাফল স্থগিত ছিল ২৪ জনের। কমিশনের সিদ্ধান্ত ছিল, ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে কারিগরি/পেশাগত ক্যাডারের উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে পৃথকভাবে ৫০ নম্বর পেতে হবে। এটি মেনেই ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর মাসে ‘দ্য বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (এইজ, কোয়ালিফিকেশন অ্যান্ড এক্সামিনেশন ফর ডিরেক্ট রিক্রুটমেন্ট) রুলস ১৯৮২’ সংশোধন করে বাংলায় নতুন এই বিধিমালা জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এই বিধি-২০-এর উপবিধি-১(ক) তে উল্লেখ আছে, ‘লিখিত পরীক্ষার গড় ন্যূনতম পাস নম্বর হবে শতকরা ৫০ ভাগ।’ পরে বিধি মেনে গত ৩০ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দফায় ফলাফল প্রকাশ করে পিএসসি। পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ ই ম নেছার উদ্দিন স্বাক্ষরিত দ্বিতীয় দফার ফলাফল প্রকাশ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কমিশন বিসিএস (বয়স, যোগ্যতা ও সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষা) বিধিমালা-২০১৪-এর বিধি-২০-এর উপবিধি-১(ক) বিধানমতে ফলাফলে সংশোধন আনা হয়েছে। ৯৫৩ জনকে সাধারণ ক্যাডার এবং কারিগরি/পেশাগত উভয় ক্যাডারের জন্য উত্তীর্ণ দেখানো হয়। যদিও ৯৫৩ জন প্রথম দফার ফলাফলে শুধু সাধারণ ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়েছিল। দ্বিতীয়বারের ফলাফলে কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে নতুন করে আরো ১৪৪ জন উত্তীর্ণ বলে বিবেচনায় আনা হয়েছে। কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে যে ১৪৪ জনকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে তাদের নাম আগের প্রকাশিত ফলাফলে ছিল না।

দুই হাজার ৫২টি পদে নিয়োগে ২০১৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ৩৪তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করে পিএসসি। ওই বছরের ২৪ মে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় কোটা পদ্ধতি প্রয়োগ করা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। উচ্চ আদালতে ফলাফল নিয়ে মামলাও হয়। পরে বাধ্য হয়ে সংশোধন করে দ্বিতীয় দফায় প্রিলিমিনারীর ফল প্রকাশ করেছিল পিএসসি।