ইচ্ছেমতো ছুটি কাটাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা

আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৫, ০০:৫৫

মোট শিক্ষকের কত শতাংশ শিক্ষা ছুটি এবং প্রেষণে যেতে পারবেন এ সংক্রান্ত কোন বিধিমালা না থাকায় নিজের ইচ্ছেমত ছুটি ভোগ করছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। কোন কোন বিভাগে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকার পরও শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন অনেকে।  অনেক শিক্ষক ছুটি না নিয়েই দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন, অননুমোদিত ছুটিতে থেকে বেতন ভাতাও গ্রহণ করছেন। যখন বিষয়টি প্রকাশ পায় তখন হয়তো বেতন ভাতা বন্ধ করা হয়। পরে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেই সহসাই মিলে যায় ছুটি। অন্যদিকে এই ছুটি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষক না থাকায় ঠিক মতো ক্লাসও হয় না। পরীক্ষা জটে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

দেশের ৩৪ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ হাজার ৫০৫ জন শিক্ষক রয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন প্রায় ১৮০০ শিক্ষক। প্রেষণে রয়েছেন ১৪০ জন এবং অননুমোদিত ও বিনাবেতনে ছুটিতে রয়েছেন ৫২২ জন শিক্ষক। সে হিসাবে কর্মস্থলে নেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ২,৪৬২ জন শিক্ষক।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ হাজার ৫৭ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন ২৭৩ জন, প্রেষণে রয়েছেন ২৫ জন এবং বিনাবেতনে ও অননুমোদিত ছুটিতে রয়েছেন ৩০১ জন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ হাজার ২১৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন ১২১ জন, প্রেষণে রয়েছেন ২০ জন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০৪ জন শিক্ষকের মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে রয়েছেন ১১৫ জন, প্রেষণে রয়েছেন ২৬ জন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৫২ শিক্ষকের মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে আছেন ১৬১ জন। এছাড়া প্রেষণে আছেন ১০ জন এবং বিনাবেতনে/অননুমোদিত ছুটিতে আছেন ৪৩ জন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ১১২ শিক্ষকের মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে আছেন ১০৯ জন। প্রেষণে ১৫ জন এবং বিনাবেতনে/অননুমোদিত ছুটিতে ১০ জন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৬০ শিক্ষকের মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে আছেন ১০৩ জন। প্রেষণে ৬ জন এবং অননুমোদিত/বিনাবেতনে আছেন ২২ জন।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৮৫ শিক্ষকের মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে আছেন ১৩১ জন। খুলনা বিশ্ববিদ্যলয়ে ৩৯০ শিক্ষকের মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে আছেন ১১৮ জন, প্রেষণে ৯ জন। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮৮ শিক্ষকের মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে আছেন ৫৪ জন। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২৩ শিক্ষকের মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে আছেন ৬৯ জন। রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮২ শিক্ষকের মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে আছেন ৬২ জন। এভাবে দেশের প্রায় প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকই কর্মস্থলে নেই। আবার যারা কর্মরত রয়েছেন তাদের কারো কারো বিরুদ্ধে রয়েছে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ। সমপ্রতি প্রকাশিত ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদনে এ অভিযোগ করা হয়।
ইউজিসি বলছে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যোগ্যতা উঁচুমানের। তবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষকের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ রয়েছে।
ইউজিসি বলছে, অনেক শিক্ষক নিয়মিত ক্লাসে না গিয়ে কিংবা শিক্ষার্থীদের আগেই নোটিস না দিয়ে ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন। এমনকি ব্যবহারিক ক্লাসেও যথাসময়ে উপস্থিত থাকেন না। একজন শিক্ষক প্রতি সপ্তাহে কত ঘণ্টা ক্লাস নিবেন-এ বিষয়ে নিজস্ব নিয়ম থাকলেও এর সঠিক বাস্তবায়ন নেই। এছাড়া এই নিয়মের ব্যাখ্যাও নেই। ক্লাস নেয়া ছাড়া গবেষণা, প্রশাসন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা ইত্যাদি কাজের জন্য কত সময় একজন শিক্ষককে তার কর্মস্থলে উপস্থিত থাকতে হবে-এ সম্পর্কে স্পষ্ট বিধান না থাকায়, অনেক শিক্ষকই বেশিরভাগ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। অনেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসাবে কাজ করেন এবং নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে ওই সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশি সময় ব্যয় করেন।
ইউজিসি মনে করে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য স্বায়ত্তশাসনের ক্ষমতা সমুন্নত রেখে ১৯৭৩-এর বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ-এর প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রয়োজন।

ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ ২০০৭-এর খসড়া প্রস্তুত করে অনেক আগেই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে অগ্রগতি নেই। ইউজিসি এ প্রসঙ্গে বলেছে, ২০০৭ সালে পাবলিক ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ ২০০৭-এর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এন্ট্রি লেভেলে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা জরুরি বলে মনে করছে ইউজিসি।