চলমান অবরোধে দেশের তৈরি পোশাকখাত বড় সঙ্কটের মুখে পড়েছে জানিয়ে রাজনীতির নামে ব্যবসায়ীদের জিম্মি না করার আহ্বান জানিয়েছে গার্মেন্টস শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।
গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম বলেন, পণ্য উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। উত্পাদিত পণ্য বন্দরে পাঠানো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশে আসতে ভয় পাচ্ছেন। ২০১৩ সালের সঙ্কট কাটিয়ে আমরা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছি। আবার সেই একই পরিস্থিতি শুরু হয়েছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এ সঙ্কট নিরসনে আমরা কোথায় যাবো? কার কাছে যাবো? আমরা ২০১৩ সালেও রাজনৈতিক সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিলাম। এখনো একই আহ্বান জানাই। পোশাক শিল্পকে জাতীয় শিল্প আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি। রপ্তানিমুখী শিল্প সংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম ও পরিবহন অবরোধের আওতামুক্ত রাখতে প্রয়োজনে তার সাথে সাক্ষাত্ করবো।
চলমান অবরোধে রপ্তানিমুখী এ শিল্পের ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় ঢাকা-চট্টগ্রামে মালামাল আনা-নেয়া কোন স্বাভাবিক বিষয় নয়। বিদেশি ক্রেতারা এটিকে সুনজরে দেখছেন না। অন্যদিকে পোশাক শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ পণ্য সামগ্রীও আনা-নেয়া করা যাচ্ছে না। আমরা যখন ক্রেতাদের বলছি, ‘আমরা আবার ব্যবসায়ে ফিরেছি। তখন ক্রেতারা আমাদের বলছেন, গত ১২ দিন তোমাদের দেশ অবরোধে আটকা। ফলে তোমরা আবার আগের জায়গায় ফিরে যাও।’ এ রাজনৈতিক অস্থিরতা চলতে থাকলে ২০১৩ সালের মত আবারো ক্রেতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে।
চলমান অবরোধের কারণে ইতিমধ্যে ক্রেতার কাছে বিমানে পণ্য পাঠানো ছাড়াও ক্রেতাকে ডিসকাউন্ট, অর্ডার বাতিল, অর্থ পরিশোধে দেরি হওয়ার মত ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। বিজিএমইএ’র হিসাবে ২০১৩ সালের রাজনৈতিক সহিংসতায় ৫ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার পণ্য বিমানে পাঠানো এবং ৯ হাজার কোটি টাকার পণ্য ডিসকাউন্ট দিতে হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, একদিনের অবরোধে প্রায় ৭শ’ কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়। প্রতিদিন এ শিল্পে প্রকৃত উত্পাদনের মূল্যমান ৪৩০ কোটি টাকা। হরতাল বা অবরোধের কারণে অর্ধেক উত্পাদন ব্যাহত হলে তার পরিমাণ দাঁড়ায় ২১৫ কোটি টাকা। তবে গত ১২ দিনের অবরোধে ক্ষতি হয়েছে ৪৫০ কোটি টাকা।
