ফ্রান্সে ১০ হাজার সেনাসহ ১৫ হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৫, ০০:৫৭

ফ্রান্সের গত কয়েকদিনের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তা বাড়াতে ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। এছাড়া ফ্রান্সের ইহুদি স্কুলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাঁচ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। খবর বিবিসি’র।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাসোয়াঁ ওলাদঁ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে সোমবার এক জরুরি বৈঠক শেষে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জ্য ইভ ল্য দুহিয়্যঁ বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে সেনা মোতায়েন শুরু হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বলেন, এখনো সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা রয়েছে। তাই স্পর্শকাতর জায়গাগুলোতে সেনা মোতায়েন করা হবে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্নার্ড ক্যাজানুয়েভে ঘোষণা দিয়ে বলেন, ফ্রান্সের ৭১৭টি ইহুদি স্কুলের সুরক্ষার জন্য স্কুল প্রাঙ্গণে পাঁচ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হবে। এছাড়া আগামী দুই দিন বাড়তি নিরাপত্তার জন্য সেনাও মোতায়েন করা হবে।
ফ্রান্সে এতো বিপুল পরিমাণ সেনা মোতায়েনের ঘটনা এটাই প্রথম। এত বিপুল পরিমাণ সেনা মোতায়েনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, যেকোন মূল্যে সন্ত্রাসী হামলা প্রতিরোধ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এবং নিহতদের স্মরণে প্যারিসের রাস্তায় ১৫ লাখ মানুষসহ বিভিন্ন স্থানে ৩৭ লাখ মানুষ একাত্মতা ঘোষণা করেন। বিশ্বের ৪০টি দেশের নেতারা প্যারিস সমাবেশে অংশ নেন। এদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন, জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। সমাবেশে মুসলিম নেতারাসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা অংশ নেন। সমাবেশের নেতৃত্ব দেন ইসলামী চরমপন্থিদের হাতে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।

প্যারিসে গত বুধবার প্রথম ইসলামী চরমপন্থিরা বিদ্রূপাত্মক ম্যাগাজিন ‘শার্লি এবদো’র অফিসে হামলা চালায়। এতে নিহত হয় ১২ জন। পরের দিন গুপ্ত হামলায় নিহত হয় এক নারী পুলিশ। সর্বশেষ হামলাটি হয় গত শুক্রবার প্যারিসের এক ইহুদি সুপার মার্কেটে। সেখানে একজন চরমপন্থি হত্যা করে আরো চারজনকে।