দক্ষিণাঞ্চলে মাছ ব্যবসায়ে ধস

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৫, ০১:০৮

বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের কারণে বাগেরহাটসহ সাদা মাছের বাজারে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ফলে পাইকারী সাদা মাছের আড়তে মাছের আমদানি অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় বেচাকেনা অর্ধেকের নীচে নেমে এসেছে। প্রতিদিন বাগেরহাটের দুটি মত্স্য আড়তে অন্তত দুইশ টন মাছ কেনাবেচা হয়ে থাকে। আর এখান থেকে এই মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। অবরোধের ফলে পরিবহন সংকটের কারণে তা এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে এই মত্স্য শিল্পের সঙ্গে জড়িত চাষি ও ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

সোমবার দুপুরে দক্ষিণাঞ্চলের সাদা মাছের সবচেয়ে বড় বিক্রয় কেন্দ্র বাগেরহাট সদর উপজেলার বারাকপুর এবং ফকিরহাট উপজেলার ফলতিতা মত্স্য আড়তের ব্যবসায়ী ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য পাওয়া গেছে। এই দুটি আড়ত থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মোকামে মাছ রপ্তানি হয়ে থাকে।
বারাকপুর মত্স্য আড়তে প্রতিদিন এক থেকে দেড় কোটি টাকার মাছ বেচাকেনা হয়ে থাকে। কিন্তু অবরোধ শুরু হওয়ার পর তা ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকায় নেমে এসেছে বলে জানান ব্যবসায়ী নেতারা। মাছের ন্যায্যমূল্য না পওয়ার আশংকায় অনেক চাষি খামার থেকে মত্স্য শিকার বন্ধ রেখেছেন।
এদিকে সাদা সোনা খ্যাত বাগদা চিংড়ির দাম বাজারে অস্বাভাবিক হারে কমে যাওয়ায় বাগেরহাটের চিংড়ি চাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বাজারে বাগদা চিংড়ির দাম কেজিতে চারশ’ থেকে পাঁচশ’ টাকা পর্যন্ত কমেছে। একদিকে বাজারে বাগদা চিংড়ির দাম কমে গেছে অন্যদিকে চাষিদের ডিপো মালিকদের কাছে চিংড়ি বাকিতে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে এই চিংড়ির ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার চাষি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বর্তমানে বড় রুই মাছের মণ ১৫-১৬ হাজার টাকা, মাঝারি ৭-৮ হাজার টাকা ও ছোট ৪ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আগের চেয়ে বর্তমানে কমপক্ষে প্রতি মণে ২-৩ হাজার টাকা কম বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন নিয়মিত না চলাচল করায় এখানে বাইরের ব্যবসায়ীরা আসতে পারছেন না।
সাদামাছ চাষি সালাম ও আজগর বলেন, ‘বর্তমানে ঘের সেচ দিয়ে মাছ ধরার সময়। আমরা এখন মাছ কম ধরছি। মাছের দাম কমে গেছে। অবরোধের কারণে মাছ নিয়ে মার্কেটে আসতে ভয় লাগে। নিরাপত্তা নেই। যদি কেউ মাছের গাড়ি ভাংচুর করে এই ভয়েতে মাছ কম নিয়ে আসছি।
মাছ ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত দুদিনে চার হাজার টাকার মাছ কিনে পনেরশ টাকা লোকসান হইছে। এই অবরোধের মধ্যে মাছ কেনা বন্ধ করে দিয়েছি।’
মামা ভাগ্নে মত্স্য আড়ত এর স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম বলেন, টানা অবরোধের কারণে মোকামে ৫-৬ লাখ টাকা আটকে রয়েছে। আমরা ব্যবসায়ীরা অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানাই।
বারাকপুর মত্স্য আড়ত সমিতির সভাপতি সৈয়দ জাকির হোসেন বলেন, প্রতিদিন এক থেকে দেড় কোটি টাকা মাছ বেচাকেনা হয়ে থাকে এই মার্কেটে। কিন্তু বিএনপি’র ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হওয়ার পর তা ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকায় নেমে এসেছে।
বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা গ্রামের চিংড়ি চাষি আব্দুস সাত্তার বলেন, এবছর আমি কুড়ি বিঘা জমিতে বাগদা চিংড়ির চাষ করেছি। মৌসুমের শুরুতে বাগদা চিংড়ি নগদ টাকায় ভাল দাম পেয়েছি। কিন্তু তিন মাস ধরে বাগদা চিংড়ির দাম অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বারাকপুর মত্স্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, এই অবরোধে এখানকার ডিপো মালিকরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।