বিএনপিকে দুষ্কৃতকারীদের দল হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম বলেছেন, সংলাপ হবে গণতন্ত্রমনাদের সাথে। কোন আঁততায়ী ও দুষ্কৃতকারীদের সাথে সংলাপ হতে পারে না। যারা রাষ্ট্রের অস্তিত্বের মূলনীতির সঙ্গে বিশ্বাসী না তার সঙ্গে কিসের আলোচনা? বিএনপিকে সংলাপ করতে হলে আগে যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গিগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক সস্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার লিখিত দিতে হবে। এরপর বিনয়ের সাথে বললেই কেবল আগামী নির্বাচন কোন প্রক্রিয়ায় হতে তা নিয়ে সংবিধানের মধ্যে থেকে তাদের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। তিনি বলেন, সংবিধানের মধ্যেই আলোচনা হতে পারে। সংবিধানের মধ্যেই অনেক কিছু সংযোজন করা যেতে পারে। নির্বাচন কমিশনকে আরও শক্তিশালী ও ক্ষমতা দেওয়া যেতে পারে।
মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটি আয়োজিত ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও সাফল্যের এক বছর’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এইচটি ইমাম বিএনপিকে অবৈধ ঘোষণার দাবি জানিয়ে এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেছেন, জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আদালতও ইতিমধ্যে সামরিক শাসনগুলো অবৈধ ঘোষণা করেছে। সামরিক শাসকদের সব কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় জিয়াউর রহমানের দল বিএনপিও অবৈধ। তাছাড়া বিএনপি এখন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড চালাচ্ছে। এসব কারণে বিএনপিকে অবৈধ ঘোষণা করার বিষয়টি এখন ভাবার সময় এসেছে।
বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও মধ্যবর্তী নির্বাচনের দাবি নাকচ করে দিয়ে এইচটি ইমাম বলেন, তত্ত্বাবায়ক সরকার ১৯৯৬ সালে একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে হয়েছিল। বর্তমানে সেই প্রয়োজনটা আর নেই্। তাছাড়া আদালত এই ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক আখ্যায়িত করে রায় দিয়েছে। আর মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে কী, হবে না সেটা নির্ভর করছে সরকারের ওপর। সরকার চাইলে ২ বছর পরে নির্বাচন হতে পারে আবার ৪ বছর পরেও হতে পারে। আবার চাইলে তার আগেও হতে পারে।
সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি প্রমুখ ছিলেন।
ডা. দীপু মনি বলেন, বিএনপি একটি নিবন্ধিত গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হলেও তাদের কার্যক্রম জঙ্গী সংগঠনের মত। কাজেই জঙ্গী সংগঠনের মত তাদের মোকাবিলা করতে পাড়ায় মহল্লাায় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জঙ্গীবাদী কার্যক্রম বাদ দিয়ে গণতান্ত্রিক আচরণ করলে বিএনপির সাথে সংলাপ হতে পারে।
