সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমস্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমানের উপর গত মঙ্গলবার রাতে হামলা ও গুলি বর্ষণের ঘটনায় গভীর নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। প্রভাবশালী পশ্চিমা এদেশগুলোর পক্ষে রিয়াজ রহমানকে গুলিবর্ষণকারী ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে চলমান সহিংস পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে রাজনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বুধবার এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব রিয়াজ রহমানের উপর হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র স্তম্ভিত ও মর্মাহত এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এমন গর্হিত ও কাপুরুষোচিত কাজের কোন যৌক্তিকতা নেই। রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য যেকোন সহিংসতাকে আমরা নিন্দা জানাই। বিবৃতিতে হামলার ঘটনার তদন্ত ও জড়িতদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে সকল পক্ষকে সহিংসতা পরিহার করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সব দলকে সংযত আচরণ এবং সহিংসতা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন থেকে বিরত থাকতে হবে। সরকারকে জনগণ যাতে স্বাধীনভাবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাজনৈতিক মত প্রকাশ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন গতকাল এক পৃথক বিবৃতিতে রিয়াজ রহমানের উপর আক্রমণের ঘটনায় নিন্দা ও রংপুরে বাসে আক্রমণের ফলে প্রাণহানি ও আহত হবার ঘটনায় গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, আমি বাংলাদেশ সরকারের কাছে এসব অবরোধের যথাযথ তদন্তের এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানাই। যুক্তরাজ্য সকল পক্ষকে সংযত থাকা, পরিমিত বোধের চর্চা, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সহিংসতা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন সৃষ্টির এই পুনরাবৃত্তি থেকে নিষ্কৃতি পেতে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতগণ গতকাল বিকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইইউ বাংলাদেশ ডেলিগেশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতিতে আমরা খুবই মর্মাহত। এর ফলে অনেক মৃত্যু, জখম ও সম্পদহানির ঘটনা ঘটছে। সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিয়াজ রহমানের উপর বর্বরোচিত হামলা ও রংপুরে বাস যাত্রীদের উপর লোমহর্ষক হামলা এর অন্যতম। রাষ্ট্রদূতগণ গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ সংকুচিত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ, চলাফেরা ও সমাবেশের অধিকার রুদ্ধ করে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের কার্যক্রম নেয়া ঠিক হবে না বলে তারা মত দেন। রাষ্ট্রদূতগণ সহিংসতার পথ পরিহার করে সকল পক্ষের মধ্যে কার্যক্রম সংলাপের আহ্বান জানান এবং এর ফলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
