ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, টিআইবি দাবি করেছে, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স প্রদানসহ বিভিন্ন র্কাযক্রমে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে পাঁচশ’ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে অর্থ লেন-দেন হয়ে থাকে।
বৃহস্পতিবার দুুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ মাইডাস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে টিআইবি’র পক্ষ থেকে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি এডভোকেট সুলতানা কামাল ও নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তৃতা করেন।
ড্রাগ (ওষুধ) প্রশাসন অধিদপ্তরের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণসহ বেশকিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে বলেও টিআইবি জানায়।
টিআইবি জানিয়েছে, বিশেষ করে ভেজাল ও নকল ওষুধ নিয়ন্ত্রণে সাম্প্রতিককালে মাঠর্পযায়ে জনবল বাড়ানো, ওষুধ পরীক্ষাগার পুনঃস্থাপন ও এর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া ভেজাল ও নকল ওষুধ তৈরি ও বাজারজাতকরণে বিভিন্ন সময়ে জোরদার অভিযান পরিচালনায় বর্তমান সরকার আশাতীত সফলতা অর্জন করেছে। এসব সত্ত্বেও এ খাতে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে বলে।
গবেষণা প্রতিবদেন উপস্থাপন করনে সংস্থার রিসার্চ এন্ড পলিসি প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. শাহনূর রহমান ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজমুল হুদা মনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তররে আওতাধীন পাঁচ শ্রেণীর ওষুধ কোম্পানীর (অ্যালোপ্যাথি, ইউনানী, আয়ুর্বেদিক, হোমওিপ্যাথি ও হারবাল) মধ্যে শুধুমাত্র অ্যালোপ্যাথি ওষুধের বাজার তদারকি ও নিয়ন্ত্রণে সমস্যা, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি গবেষণায় আনা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সুশাসন সম্পর্কিত আলোচনার ক্ষেত্রে সুশাসনের বিভিন্ন নির্দেশককে (আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, অংশগ্রহণ, সংবেদনশীলতা, দক্ষতার ঘাটতি ও দুর্নীতি) ভিত্তি করে এসব তথ্য সংগৃহীত ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
এডভোকেট সুলতানা কামাল বলনে, ‘ব্যবসায়ীরা প্রতিটি ব্যবসায় বেশী মুনাফার লোভে অসদুপায় অবলম্বন করেন। এতে করে ব্যবসার সাথে জড়িত ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে। ফলে সাধারণ মানুষ সর্বোচ্চ সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বিদেশে রফতানি করার জন্য উৎপাদিত ওষুধের মান ঠিক থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেশে উৎপাদিত ওষুধের মান সঠিক থাকে না।’
এ সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি’র পক্ষ থেকে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ১২-দফা সুপারিশ উত্থাপন করা হয়।
যুগোপযোগী ওষুধ নীতি তৈরি, সমন্বিত আইন প্রণয়ন ও আইনের র্কাযকর বাস্তবায়ন, জনবল ও দক্ষতা বাড়ানো, দুর্নীতির অভিযোগ যথাযথ প্রক্রিয়ায় তদন্ত করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতেই এ সুপারিশমালা উত্থাপন করা হয়েছে বলে টিআইবি উল্লেখ করে।
সংস্থার উপ-নির্বাহী পরচিালক ড. সুমাইয়া খায়ের এবং রিসার্চ এন্ড পলিসি বিভাগের পরচিালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
