যুক্তরাষ্ট্রে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধার (জিএসপি) পুনর্বহাল চাইলে বাংলাদেশকে শ্রমিকের অধিকার এবং নিরাপত্তা বাড়াতে আরো কাজ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, শ্রমিকদের অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশে কাজ করছে তবে জিএসপির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য বাংলাদেশকে আরো কাজ করতে হবে। রানা প্লাজা ধসের পর এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে দুই হাজারেরও বেশি পোশাক কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করা হয়েছে। বেশ কিছু কারখানার নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জিএসপি পুনর্বহালের আগে আরো কয়েক শ’ কারখানার নিরাপত্তা পরিদর্শন কাজ সম্পন্ন করতে হবে। খবর:এএফপি।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে রানা প্লাজা ধসে হাজারেরও বেশি পোশাক শ্রমিকের প্রাণহানীর পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিশেষ এই বাণিজ্য সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি মাইকেল ফ্রোমান বলেন, অগ্নি ও ভবনের নিরাপত্তা ইস্যুতে অগ্রগতি হয়েছে। তবে শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রচেষ্টা আরো জোরদার করতে হবে। শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অনেক শ্রমিককে এখনো হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হতে হচ্ছে। এসবের প্রতিকারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমরা বাংলাদেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির মাত্র এক শতাংশ জিএসপির আওতাভূক্ত। জিএসপি সুবিধা পায় এমন সব পণ্যের মধ্যে রয়েছে তামাকজাত দ্রব্য, প্ল্যাস্টিক, সিরামিকের তৈজসপত্র এবং খেলাধুলোর সামগ্রী। পোশাক খাত জিএসপি সুবিধার আওতায় না থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা ইউরোপীয় ইউনিয়ন যদি যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করে জিএসপি সুবিধা আটকে দেয়, তাহলে ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি হুমকির মুখে পড়বে।
