বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। ফলে বিশেষ করে বিদেশ থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স যোগে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আসার পর যাত্রীদের সীমাহীন বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো মাথাব্যথা নেই।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর দিয়ে দৈনিক বিভিন্ন দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সের প্রায় এক শ ফ্লাইট আসা-যাওয়া করে। সকল ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব বিমানের ওপর ন্যাস্ত। আর এই গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ পরিচালনা করে বিমানের প্রতিবছর আয় হয় কমপক্ষে পাঁচ শ কোটি টাকা। কিন্তু এ কাজে বিমান দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছে। যাত্রীদের ফ্লাইট থেকে নেমে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর ব্যাগেজের জন্য দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে হয়। এমনকি দুই-আড়াই ঘণ্টায়ও অনেক যাত্রী তাদের লাগেজ হাতে পান না। এটা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
বিমানের একটি সূত্র জানায়, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজে কাঙ্খিত মান রক্ষা করা যাচ্ছে না। এ খাতে প্রতিবছর বিপুল অংকের আয় হলেও বিনিয়োগের পরিমাণ খুবই নগণ্য। গত ৫ বছর ধরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজে ব্যবহার্য সরঞ্জাম ক্রয়ে তেমন উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করা হয়নি। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়ের জন্য বর্তমানে প্রায় ১০০ কোটি টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এ অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া, ক্রয়নীতি জটিল হওয়ায় সরঞ্জাম ক্রয়ে দীর্ঘসূত্রতা সৃষ্টি হয়। এ দিকে, গত বছরের আগস্ট মাসে এ ধরনের সরঞ্জাম ক্রয় নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরে তা চাপা পড়ে যায়। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কাজে সাড়ে তিন শর বেশি জনবল রয়েছে। কিন্তু তাদের কাজকর্ম তদারকি ব্যবস্থা বড়ই নাজুক। দীর্ঘকাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত এক কর্মকর্তাকে সম্প্রতি গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং শাখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিমানে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং শাখার ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার জানান—সরঞ্জামের অভাবে যাত্রীদের কাঙ্খিত সেবা দেয়া যাচ্ছে না। তবে অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
