দেশে প্রতিষ্ঠিত টেস্টিং ল্যাবরেটরিগুলোর অনুকূলে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য পরীক্ষণ সনদ (অ্যাক্রেডিটেশন সার্টিফিকেট) প্রদানের সক্ষমতা অর্জন করলো শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি)।
গত ৮ জানুয়ারি হংকংয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া প্যাসিফিক ল্যাবরেটরি অ্যাক্রেডিটেশন কো-অপারেশন (এপিএলএসি) এর পারস্পরিক স্বীকৃতি বিষয়ক সভায় বিএবি এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
রবিবার শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বিএবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই স্বীকৃতির তথ্য জানান।
গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতির বিষয় তুলে ধরতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিএবির মহাপরিচালক মোঃ আবু আবদুল্লাহ্র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিল্পসচিব মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এনডিসি, বিএসটিআই মহাপরিচালক ইকরামুল হক, ডাইসিন গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান, এসজিএস’র কোয়ালিটি ও সেফটি বিষয়ক ব্যবস্থাপক মোঃ মোস্তাক পারভেজ বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি রফতানিকালে লোহা মিশিয়ে ওজন বাড়ানোর অপচেষ্টার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশ ইমেজ সংকটে পড়ে। এর প্রেক্ষিতে রফতানির ক্ষেত্রে গুণগতমান বজায় রাখতে মহাজোট সরকারের প্রথম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড গঠন করা হয়।
তিনি বলেন, বিএবির ল্যাবরেটরি অ্যাক্রেডিটেশন কার্যক্রম আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ায় এর গুরুত্ব অনেক বেড়ে গেছে। এর ফলে আগামীতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি আরো বাড়বে। তিনি এ অর্জন ধরে রাখতে টেস্টিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার নির্দেশনা দেন।
আমু বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক নিয়ে প্রতিযোগিদের ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। এ ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় পণ্যের গুণগতমান উন্নত করার পাশাপাশি পরীক্ষণ ল্যাবরেটরির সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পরীক্ষণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকমান ধরে রাখতে সক্ষম হলে, বিদেশি ক্রেতারাও বাংলাদেশ থেকে টেস্টিং সার্টিফিকেট নেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বিএবির মহাপরিচালক মোঃ আবু আবদুল্লাহ্ জানান, ২০১২ সাল থেকে বিএবি এ পর্যন্ত ১৯টি ল্যাবরটরিকে অ্যাক্রেডিটিশন সনদ প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে কর্মরত ৪২২ জনকে প্রশিক্ষিত করেছে।
বাংলাদেশের শিল্পপণ্যের মানোন্নয়ন ও রফতানি বৃদ্ধিতে বিএবি আরো কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড (বিএবি) বর্তমানে পণ্যের ওজন ও পরিমাপ (ক্যালিব্রেশন), মেডিক্যাল ল্যাবরেটরি, সার্টিফিকেশন বডি, ইন্সপেকশন বডি ও হালাল সার্টিফিকেশনের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে। খুব শীঘ্রই এসব খাতেও বিএবি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে। এর ফলে বিদেশ থেকে পণ্যের গুণগতমান সনদ নিতে যে অর্থ ও সময় খরচ হয়, তা সাশ্রয় হবে। বর্তমানে গুণগত মান সনদখাতে উদ্যোক্তাদের মোট রফতানির শতকরা ২০ ভাগ ব্যয় হচ্ছে। এ হিসেবে সকল বিষয়ে বিএবি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলে, বছরে ন্যূনতম ৬ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। -বাসস
