শিক্ষাকে করতে হবে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার-রাবি সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৫, ১৯:৫৮
 
মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বিশ্বায়নের সঙ্গে যুক্ত থেকেও সমুন্নত রাখতে হবে নিজস্ব কৃষ্টি আর গৌরবকে। শিক্ষাকে করতে হবে সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। তরুণ প্রজন্মকে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানে আন্তর্জাতিকমানে গড়ে তুলতে হবে যেন তারা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হতে পারে। রবিবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম সমাবর্তনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, 'শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয়, বরং বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন, অসাম্প্রদায়িক জীবনবোধ, সর্বোপরি গভীর দেশপ্রেম জাগ্রত করার একমাত্র উপায় হচ্ছে মানসম্মত শিক্ষা। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার পাশাপাশি সৃজনশীল কর্মকাণ্ড ও চিন্তার স্বাধীনতা বিকাশে অবদান রাখতে হবে।'
গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'তোমরা আজ গ্রাজুয়েট, দেশের উচ্চতর মানবসম্পদ। আজকের এই সমাবর্তন একদিকে যেমন তোমাদের অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিচ্ছে তেমনি দায়িত্বও অর্পণ করছে। সে দায়িত্ব নিজের প্রতি, সমাজের প্রতি, সর্বোপরি দেশ ও জাতির প্রতি। মনে রাখবে, তোমাদের এ পর্যায়ে নিয়ে আসতে সমাজের মেহনতি মানুষের অবদান রয়েছে। তাদের তোমরা ঋণী। তোমরা তোমাদের অর্জিত জ্ঞান মেধা ও মনন দিয়ে দেশমাতৃকার কল্যাণ করতে পারলে সে ঋণ কিছুটা হলেও শোধ হবে। এছাড়া গ্রাজুয়েটদের প্রতি তিনি অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম এবং বিশ্বজনীনতার মতো দৃষ্টিভঙ্গি তোমরা হৃদয়ে লালন করার আহ্বান জানান।'
IMG0
সমাবর্তন বক্তার বক্তব্যে দিল্লীর জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর তালাত আহমদ গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের অবশ্যই বৃহত্তর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গে সচেতন থাকতে হবে।
তিনি বলেন, 'জ্ঞান এবং যোগ্যতাকে অবশ্যই সমাজের কল্যাণ এবং মানবতার বৃহত্তর কল্যাণের জন্য ব্যবহার করতে হবে। শিক্ষার্থীদের বিশ্বের বাস্তবসম্মত ইস্যুগুলোতে নিজস্ব জীবনদর্শন ও সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ঘটাতে হবে এবং শুধু জ্ঞানের ক্ষেত্রে নয় বরং কল্যাণকর সব বিষয়ে নেতৃত্ব দিতে হবে।'
নারী গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে তিনি বিশেষভাবে বলেন, 'বাংলাদেশ নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তোমাদের সংগ্রাম ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং লক্ষ্যচ্যুত হওয়া যাবে না। তোমাদের চলার পথে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে কিন্তু তোমরা যদি দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ থাকো তাহলে লক্ষের শেষ সীমায় তোমরা উজ্জ্বল নক্ষত্র হতে পারবে।'
সমাবর্তনে স্বাগত ভাষণ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান। রবিবার দুপুর আড়াইটায় সমাবর্তন অনুষ্ঠানস্থল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে শোভাযাত্রাসহ প্রবেশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এরপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশ করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি অনুষদের এমফিল, স্নাতকোত্তর এবং স্নাতক ডিগ্রি প্রাপ্তদের ডিগ্রি প্রদানের জন্য চ্যান্সেলরের নিকট উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং অনুষদের ডিনবৃন্দ। রাষ্ট্রপতি তাদের ডিগ্রি প্রদান ঘোষণা করেন।
এর আগে দুপুর ২টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নবনির্মিত বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ছাত্রী হলের শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।