ঢাকা সাংবাদিক সমিতির প্লট বরাদ্দের দুর্নীতি পুনঃতদন্তের নির্দেশ

আপডেট : ১৯ জানুয়ারি ২০১৫, ২০:০৩
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সমবায় সমিতির প্লট বরাদ্দে অনিয়মের মামলার চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেয়নি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে মামলার চার্জশিট দাখিলের লক্ষ্যে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
দুদকের উপ-পরিচালক হামিদুল হাসানকে এ মামলার নতুন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সমপ্রতি মামলার এক আসামির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন এ শুনানি গ্রহণ করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে।
ওই সূত্র জানিয়েছে, কমিশনের কাছে অনুমোদন চাওয়া চার্জশিটে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করার সুপারিশ ছিল। ওই চার্জশিট ও শুনানি পর্যালোচনা করে কমিশন মামলাটির পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৬ সালে আলমগীর কবিরের হস্তক্ষেপে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের (এনএইচএ) কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে  মিরপুর ১৪ ইসিবি চত্বরে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন সমবায় সমিতি লিমিটেডকে বাজার মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে প্লট বরাদ্দ দেন। ১৮ কোটি ৯১ লাখ ৩০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি সাত একর সম্পত্তি তিন কোটি ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যে বরাদ্দ দিয়ে সরকারের ১৫ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার ৯০০ টাকা ক্ষতিসাধনপূর্বক আত্মসাতের অভিযোগে গত ৬ মার্চ রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলাটি (মামলা নং-১১) দায়ের করা হয়।
মামলায় সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃৃপক্ষের সাবেক উপ-পরিচালক (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) মো. আজহারুল হক, ক্যাশিয়ার মো. মনছুর আলম, হিসাব সহকারী মো. মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। গতকাল সোমবার তদন্ত কর্মকর্তা মামলার র্চাজশীট প্রদানের জন্য কমিশনে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।
ওই প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তে আসামি হিসেবে নতুন করে তিনজনকে যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছিল। এরা হলেন, তত্কালীন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান ও সাবেক পরিচালক মেহেদী হাসান। প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা পাওয়ায় মামলার চার্জশিটে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছিল। অপর দিকে মামলার তদন্ত পর্যায়ে এজাহারভুক্ত আসামি হিসাব সহকারী মো. মতিয়ার রহমান এবং ট্র্রেজারার মনসুর আলমের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের মামলার দায় থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছিল।
মামলার তদন্ত পর্যায়ে সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস, নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, গৃহায়নের সাবেক তিন চেয়ারম্যানসহ ২৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। মামলা দায়েরের আট মাসের মাথায় দুদকের পরিচালক যতন কুমার রায় এ চার্জশিট কমিশনে দাখিল করেছিলেন।