শহীদ আসাদ দিবস আজ

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৫, ০১:২৬

আজ ২০ জানুয়ারি, শহীদ আসাদের ৪৬তম শাহাদাত্ দিবস। আমানুল্লাহ মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ওরফে আসাদ এই দিনে ঢাকার রাজপথে পাকিস্তানি পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। শহীদ আসাদ ১৯৪২ সালের ১০ জুন নরসিংদীতে জন্মগ্রহণ করেন। ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পিতা আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ আবু তাহের বিএবিটি হাতিরদিয়া সাদত আলী হাই স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে তখন কর্মরত ছিলেন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে শহীদ আসাদের নাম অমর হয়ে আছে। ঊনসত্তরের গণআন্দোলনকালে শহীদ আসাদের আত্মত্যাগ বিফলে যায়নি বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, স্বাধিকারের দাবিতে সোচ্চার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ সেদিন জেল-জুলুম উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে এসেছিল। পর্যায়ক্রমে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। সেদিনের সেই আন্দোলন পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মহান মু্ক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।  প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেছেন, বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসে শহীদ আসাদ দিবস তাত্পর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, কারাগারে আটক বঙ্গবন্ধুর মুক্তির দাবিতে গর্জে ওঠে সারা বাংলার মানুষ। ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে ছাত্র-জনতার এক সমাবেশে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্র আসাদুজ্জামান।
শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্যমূলক আচরণ এবং দমন-পীড়নে বাংলার মানুষ যখন দিশেহারা, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয়-দফা তখন বাঙালির মুক্তির দিশারী হিসেবে আবির্ভূত হয়। তিনি বলেন, ছয়-দফার সপক্ষে প্রবল জনমতের জোয়ার দেখে আতঙ্কিত সামরিক জান্তা আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা দায়ের করে যা আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে সমধিক পরিচিত। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়। বঙ্গবন্ধু নিপীড়িত ও নির্যাতিত বাঙালির মুক্তির মূর্ত প্রতীকে পরিণত হন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ আসাদের এই আত্মত্যাগ চলমান আন্দোলনকে বেগবান করে। পরবর্তীকালে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পতন হয় স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করবে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের জরুরি বিভাগের পাশে আসাদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করবে বিভিন্ন সংগঠন।
ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। জাতীয় প্রেসক্লাবে বেলা ১১ টায় এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টি, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ ভাসানী), ন্যাপ ভাসানী, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, নয়াগণতান্ত্রিক গণমোর্চা, জাতীয় গণতান্ত্রিক মঞ্চ, জাতীয় গণফ্রন্ট কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি নানা কর্মসূচি পালন করবে।
আমাদের শিবপুর (নরসিংদী) সংবাদদাতা জানান, দিবসটি উপলক্ষে শিবপুর উপজেলার ধানুয়া গ্রামে শহীদ আসাদের মাজার জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন এবং শিবপুর সরকারি শহীদ আসাদ কলেজের অধ্যক্ষ হাসনা হেনার সভাপতিত্বে ছাত্র-শিক্ষক পরিষদের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া শিবপুর শহীদ আসাদ কলেজিয়েট গার্লস হাই স্কুল এন্ড কলেজ ও শিবপুর আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পৃথকভাবে কবিতা পাঠ, চিত্রাঙ্কন, সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতাসহ এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

সাবেক ঢাকা জেলা, বর্তমানে নরসিংদীর এক ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তার জন্ম। শহীদ আসাদ শিবপুর পাইলট হাই স্কুলে লেখাপড়া শুরু করেন। ১৯৬০ সালে মেট্রিকুলেশন পরে ঢাকায় জগন্নাথ কলেজে বড় তিন ভাইকে অনুসরণ করে বিজ্ঞান পড়ার জন্য আইএসসিতে ভর্তি হন এবং এখানে এক বছর লেখাপড়া করেন। পরে সিলেট মুরারী চাঁদ কলেজে গিয়ে আইএসসিতে ভর্তি হন। এ কলেজে পড়া অবস্থায়ই আসাদ ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। শুধু তাই নয়, সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করার উদ্দেশ্যে পরিবারের অজ্ঞাতে বিজ্ঞান পড়া ছেড়ে দিয়ে আইএ ভর্তি হন। ১৯৬৩ সালে ঐ কলেজ থেকে আইএ পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাসে বিএ (অনার্স)  ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৬৬ সালে বিএ (অনার্স) এবং ১৯৬৭ সালে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা সিটি ল’ কলেজে এলএলবিতে ভর্তি হন। কিন্তু ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় এ বছরেই দ্বিতীয়বার মানোন্নয়নমূলক পরীক্ষা দেন। কিন্তু পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পূর্বেই ১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি বেলা আনুমানিক দেড়টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পূর্বদিকে প্রধান ফটকের পাশের ফুটপাতে জনৈক পুলিশ অফিসারের পিস্তলের গুলিতে আসাদের হূদপিণ্ড বিদীর্ণ হয়। গুলিবিদ্ধ আসাদকে হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরের দিন ২১ জানুয়ারি নিজ গ্রাম শিবপুরের ধানুয়ায় পারিবারিক গোরস্তানে তাকে সমাহিত করা হয়।