আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার সময় যেন হরতাল-অবরোধ রাখা না হয়, সেজন্য এই ধরনের কর্মসূচি আহ্বানকারীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাসদের শিরিন আক্তারের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এই আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে, এটা ৬ মাস আগেই চূড়ান্ত করা। এটা জেনেও তারা এই ধরনের হরতাল-অবরোধ নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষ পুড়িয়ে মারার ঘটনায় আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। তাদেরকে বলবো-দয়া করে আপনারা হাত-পা গুটিয়ে নিন, এসব বন্ধ করুন, এই সন্তান তো আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির নয়, সব দলেরই সন্তান।
নাহিদ বলেন, বছরের প্রথমদিন সন্তানদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া হোক হরতাল-অবরোধকারীরা তা চায় না। এজন্য বছরের প্রথমদিনেও হরতাল ডাকা হয়েছে। সামনে ছেলে-মেয়েদের পরীক্ষা। সচেতন মানুষ যারা আছেন তাদের বলবো এগিয়ে আসুন, প্রতিহত করুন এসব অরাজকতা।
ঝিনাইদহ-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তাহ্জীব আলম সিদ্দিকীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার আরো কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমরাই প্রথম প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ করেছি। তদন্ত করেছি, পরীক্ষাও বন্ধ করেছি। আগে বলেছিলাম পরীক্ষার দিনই প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হবে। কিন্তু দেশের বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে তা সম্ভব হচ্ছে না। কেন না পরীক্ষার দিন আমি থানচিতে প্রশ্ন পাঠাবো কিভাবে?। সন্দীপে প্রশ্ন পাঠাবো কীভাবে। তাছাড়া সেইসময় যদি বিদ্যুত্ না থাকে তাহলে কী করা হবে।
তাহ্জীব আলম সিদ্দিকী তার প্রশ্নে বলেন, এসএসপি ও এইচএসসিসহ পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা খুবই উদ্বেগের বিষয়। প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও সরকার স্বীকার করে না। অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ হয় না। প্রশ্নপত্র ফাঁস হলে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেবে কিনা?
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেকে আমাকে বলেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার দিন সকালে যেন প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়। এটা করলে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করা যাবে। সেখানে একটি গন্ডির মধ্যে থেকে যেটা করা সম্ভব আমাদের পক্ষে তা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, টিভি টক শো-তে বলা হয় আমরা প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও আমরা প্রকাশ করি না। প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও আমরা স্বীকার করিনি-এটা অসত্য। যারা প্রশ্ন তৈরির সাথে জড়িত তাদের বিষয়েও সরকার সতর্ক অবস্থানে। নাহিদ আরও বলেন, ফাঁস ঠেকতে আমরা চার সেট প্রশ্নপত্র তৈরি করি। ফাঁসের পর প্রশ্নপত্র পরিবর্তন করে দেয়া হয়। ফাঁসের ঘটনা তদন্তে তিনটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
