৩৫ হাজার চাকরি প্রার্থীর ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৫, ০১:২৫

খাদ্য বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির প্রায় ৩৫ হাজার চাকরি প্রার্থীর ভবিষ্যত্ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরীক্ষা গ্রহণসহ নিয়োগের সকল প্রক্রিয়া শেষে এখন সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) ওই নিয়োগ বাতিলের সুপারিশ করেছে।

পিএসসি বলছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যথাযথ আইন মানা হয়নি। অন্যদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয় বলছে, অসাবধানতাবশত হওয়া ছোট খাট ভুল ধরে কয়েক হাজার চাকরি প্রত্যাশীকে বিড়ম্বনায় ফেলা উচিত হবে না। খাদ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কবি কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী বলছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি অধিদপ্তরের সাইলো অপারেটর, স্প্র্রেম্যান, দারোয়ান এবং এমএলএসএস-এই চার ক্যাটাগরিতে নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। আবেদনকারীদের মধ্যে ৩৪ হাজার ৭১৯ জনের মৌখিক পরীক্ষাও নেয়া হয়। মৌখিক পরীক্ষাকালে পিএসসির প্রতিনিধি থাকলেও তারা সে সময়ে কোন আপত্তি উত্থাপন করেননি।
যে কারণে পিএসসির আপত্তি: চতুর্থ শে্রিণর কর্মচারী নিয়োগের বিষয়ে গত বছরের ২৪ নভেম্বর বিভাগীয় নির্বাচন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় উপস্থিত পিএসসির প্রতিনিধি যে প্রতিবেদন দেন তাতে উল্লেখ করা হয়, খাদ্য অধিদপ্তর নিয়োগ পরীক্ষার ফি বাবদ ২০০ টাকা নিয়েছে। এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০১০ সালে জারি করা পরিপত্রের পরিপন্থি। ওই পরিপত্রে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে ৫০ টাকা ফি নেয়ার বিধান রয়েছে। এ ছাড়া পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান উল্লেখ করা হলেও মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পুত্র-কন্যা এবং পুত্র-কন্যার পুত্র-কন্যারা আবেদন করতে পারবেন বলে উল্লেখ করা হয়নি। এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০১১ সালের ১৬ জানুয়ারি এবং একই বছরের ৯ মে জারি করা পরিপত্রের পরিপন্থি।
গত ৮ ডিসেম্বর পিএসসির ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. শাহাজান আলী মোল্লা খাদ্য বিভাগের সচিবকে লেখা চিঠিতে নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় সরকার নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে নিয়োগ কার্যক্রম শুরুর সুপারিশ করেন। একইসঙ্গে তিনি এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণের সুপারিশ করেন।
এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মুশফিকা ইকফাত্ জানান, এ বিষয়ে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত ভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে। তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন।
সূত্র জানায়, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (অতিরিক্ত সচিব) অজ্ঞতা এবং অনিয়মের অভিযোগে মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। এদিকে, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, খাদ্য অধিদপ্তরের অজ্ঞতা গ্রহণযোগ্য নয়। একারণে ইতিমধ্যে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাই ৩৪ হাজার ৭১৯ জন পরীক্ষার্থীকে নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণের নামে অধিকতর বিড়ম্বনায় পতিত করা সমীচীন হবে না। এ বিবেচনায় নিয়োগ পরীক্ষা বহাল রাখার পক্ষে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

খাদ্য বিভাগের মতে, যেসব চাকরিপ্রার্থী প্রত্যাশা করছেন তারা চাকরি পাবেন, এখন নতুন করে পরীক্ষা নিতে গেলে শুধু যে প্রার্থীদের বিড়ম্বনা হবে তাই নয়-অনেকেরতো বয়সও শেষ হয়েছে। তাদের অনেকেই এখন আবেদনই করতে পারবেন না। আর মুক্তিযোদ্ধার কোটা সংরক্ষণের কথা উল্লেখ থাকলে সে সুযোগ তারা বা তাদের উত্তরসূরিরাই পেয়ে থাকেন সেটি আলাদা করে উল্লেখ করার প্রয়োজন হয় না। তবুও সরকারি নির্দেশনা যথাযথ মানা উচিত। কিন্তু সামান্য ভুল বা ব্যক্তি বিশেষের অজ্ঞতার কারণে হাজার হাজার ব্যক্তির ক্ষতি করারও কোনো সুযোগ নেই। যেসব ব্যক্তি দায়ী তাদের শাস্তি হোক-কিন্তু বেকার যুবকদের এ ধরনের ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়া ঠিক হবে না।