অবরোধের আগুনে দগ্ধ আরো দুই জনের মৃত্যু

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৫, ২০:১২
 
শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে পরিচয়হীন অগ্নিদগ্ধ শিশুটিও চলে গেল। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে সে মারা যায়।
১২/১৩ বছরের এই শিশুটিকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে সাভারের গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বগুড়ার বারপুরের নুনগোলা এলাকায় ট্রাকে পেট্রোলবোমা হামলায় দগ্ধ ট্রাক চালকের সহকারী আব্দুর রহিম মোড়ল (৩০) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা গেছেন। চিকিত্সাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল সোয়া ১০ টার দিকে তিনি মারা যান।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান সমন্বয়কারী ও প্লাস্টিক সার্জন ড. সামন্ত লাল সেন শিশুটির মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির লাশ বার্ন ইউনিটের মর্গে রাখা হয়েছে। শিশুটির নাম জাকির বলে হাসপাতালের ভর্তি খাতায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পিতার নামের জায়গা খালি। শিশুটির শরীরের ৭০ শতাংশ আগুনে পুড়ে গেছে বলে হাসপাতালের খাতায় লেখা ছিল। বার্ন ইউনিটের চিকিত্সক সাজ্জাদ খন্দকারের অধীনে শিশুটি ভর্তি ছিল।
সাজ্জাদ খন্দকার জানান, গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের যারা শিশুটিকে নিয়ে এসেছেন, তারা বলেছেন শিশুটি একটি বাসের ভেতরে ছিল। চিকিত্সকদের সঙ্গেও কিছুটা ইশারায় শিশুটি জানিয়েছে, সে একটি বাসের ভেতরে অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। সাভারের গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের পরিচালক আশরাফউদ্দীন মল্লিক বলেন, কয়েকজন লোক গত ১৩ জানুয়ারি রাতে শিশুটিকে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে রেখে যান। তবে তারা কেউ শিশুটির স্বজন নন। তাদেরই একজন বলেছেন, শিশুটি একটি বাসে ছিল। ঢাকা মেডিক্যালের একজন চিকিত্সক বলেন, শিশুটির শরীরের ৭০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল এ ধরনের রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে ঢামেক হাসপাতালে না পাঠিয়ে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে তিনদিন গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে রেখে চিকিত্সা দিয়েছে।
সাভার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা কামাল বলেছেন, জাকিরকে হাসপাতালে নেয়ার দিন সাভার থানা এলাকায় কোনো গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেনি। শিশুটি কীভাবে দগ্ধ হয়েছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ট্রাক চালকের সহকারী আব্দুর রহিম মোড়লের সঙ্গে দগ্ধ ফার্নিচার ব্যবসায়ী সাজু খলিফা (৩০) বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যালে বার্ণ ইউনিটে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। সাজু খলিফা জানান, গত বৃহস্পতিবার আব্দুর রহিম ও তিনি ট্রাকে করে পিরোজপুরে আসবাপত্র (ফার্নিচার) নিয়ে যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে বগুড়া শহরের বারপুরের  নুনগোলা এলাকায় আসলে তাদের ট্রাকে পেট্রোলবোমা হামলা করা হয়। এ সময় আব্দুর রহিম, তিনি ও ট্রাক চালক টিটেন দগ্ধ হন। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিত্সার জন্য বৃহস্পতিবার রাতেই তাদের দু’জনকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিত্সাধীন অবস্থায় আব্দুর রহিম মারা গেলেন। আব্দুর রহিম সাতক্ষীরা জেলা সদরের শ্রীরামপুরের আলেক উদ্দিনের ছেলে। চিকিত্সকরা জানান. আব্দুর রহিমের শরীরের ৩৯ ভাগ ও সাজুর শরীরের ২০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। সাজু বর্তমানে পর্যবেক্ষনে রয়েছে।