তৈরি পোশাকের পর বাংলাদেশের বিকাশমান চামড়া শিল্পের রপ্তানি ব্যাহত করতে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি এর মোকাবেলায় হাজারিবাগ থেকে সাভারের পরিবেশবান্ধব চামড়া শিল্পনগরিতে দ্রুত ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য ট্যানারি মালিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সরকার জাতীয় স্বার্থে নির্ধারিত সময়ের পর হাজারিবাগে একটি ট্যানারি স্থাপনাও রাখার সুযোগ দেবে না বলে তিনি আবারও মালিকদের সতর্ক করে দেন।
শনিবার “চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য: তৈরি পোশাকের পরবর্তী সম্ভাবনাময় শিল্প’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাজধানীর একটি হোটেলে বিনিয়োগ বোর্ড এ কর্মশালার আয়োজন করে।
বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহি চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ এ. সামাদের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য ড. মো. আবদুর রাজ্জাক, এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন, বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহি সদস্য নাভাস চন্দ্র মন্ডল, বাংলাদেশ ফিনিসড্ লেদার, লেদার গুড্স অ্যান্ড ফুট ওয়্যার অ্যাক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আবু তাহের বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমানে বিশ্বে ২শ’ ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার রয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্ব চাহিদার শতকরা একভাগেরও কম পূরণে সক্ষম হচ্ছে। পণ্য বৈচিত্রকরণ, পরিবেশবান্ধব পণ্য উত্পাদন ও সবুজ প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়িয়ে চামড়া শিল্পখাতে রপ্তানি কয়েকগুণ বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। পরিকল্পিত চামড়া শিল্প গড়ে তুললে, এখাত তৈরি পোশাক পরবর্তী বৃহত্ রপ্তানিমুখী শিল্পখাত হিসেবে গড়ে ওঠবে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, চামড়া শিল্প একটি দেশিয় কাঁচামালনির্ভর একশ’ ভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পখাত। এ শিল্পের সাথে ২শ’ ২০টিরও বেশি ট্যানারি, সাড়ে ৩ হাজার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং ১শ’ ১০টি বৃহত্ শিল্প জড়িত। এসব কারখানায় বছরে ২৫ কোটি বর্গফুটেরও বেশি চামড়া উত্পাদিত হয়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ শিল্পখাতে প্রায় ৭০ লাখ দক্ষ ও অদক্ষ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এ শিল্পে শতকরা ৯০ ভাগ মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে বাংলাদেশ চামড়া শিল্পখাতে রপ্তানি আয় হয়েছে ১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি আগের বছরের তুলনায় শতকরা ৩২ দশমিক ১২ ভাগ বেশি। ইউরোপিয় ইউনিয়ন ও জাপানের বাজারে বাংলাদেশি চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ায় এখাতে রপ্তানি বৃদ্ধির বিশাল সুযোগ রয়েছে।
