ঢাকা ভেঙে তিন বিভাগ করতে চান প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৫, ১৯:৩৩
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে ঢাকাকে ভেঙে তিনটি বিভাগ করার পক্ষে মতামত তুলে ধরে বলেছেন, ঢাকা বিভাগে ১৭টি জেলা এবং সব থেকে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে প্রশাসন চালানো যে কি কঠিন অবস্থা তা অনুধাবন করে ইতিমধ্যে ময়মনসিংহকে বিভাগ করার ঘোষণা দিয়েছি। মানুষকে সত্যিকারভাবে সেবা দিতে গেলে, উন্নয়ন করতে হলে ঢাকাকে ভেঙ্গে তিনটি বিভাগ করা প্রয়োজন। এতে একদিকে জনসেবা বাড়বে, অন্যদিকে প্রশাসনকে সম্প্রসারণ করা যাবে। অকারণে ফাইল যাতে আটকে না থাকে এবং কাজের দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
রবিবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গত বছরের জানুয়ারিতে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করছেন শেখ হাসিনা। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আসেন, যে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে তিনি নিজেই রয়েছেন।
 
সরকার ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ চায়
 
শেখ হাসিনা বলেন, সরকার ধীরে ধীরে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে চায়। তবে ঢাকাকে ভেঙে তৃতীয় কোন বিভাগ হতে পারে এমন ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রেটার ডিসট্রিক্ট বা জনসংখ্যা হিসেবে ধরে আমরা এটা করতে পারি। তবে এক্ষেত্রে আবার আর্থিক বিষয়টা আমাদের চিন্তা করতে হবে। তাই আপাতত ঢাকায় দুই বিভাগ হোক। গ্রেটার ময়মনসিংহ, আর ঢাকা ঢাকাই থাকুক। এটা দ্রুত করার ব্যবস্থা করতে হবে। যত দেরি হবে ততই জটিলতা বাড়বে। আর ভবিষ্যতে পরের বিভাগের বিষয়টি দেখা যাবে। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দশে শেখ হাসিনা বলেন, কোন এলাকায় কি ধরনের কার্যক্রম নিলে সে এলাকার দ্রুত উন্নতি হবে, মানুষ সেবা পাবে, সেভাবে চিন্তা করেই কিন্তু আমাদের বাজেট এবং উন্নয়ন প্রকল্পগুলি গ্রহণ করা দরকার। মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের গুরুত্ব অনেক। স্থানীয় সরকার ও স্থানীয় উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গ্রহণের সময় প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভৌগলিক অবস্থানের কথাও মাথায় রাখতে হবে। গণমুখী ও গতিশীল প্রশাসন গড়ে তুলতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
দীর্ঘ সময় ফাইল আটকে না রাখার নির্দেশ
শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের লক্ষ্য দেশকে এগিয়ে নেয়া। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারের হৃদপিণ্ড। এ মন্ত্রণালয়ের অনেক দায়িত্ব। কিন্তু দেখা যায় এখানে এসে কোন একটা ফাইল পড়ে থাকে। কোন প্রস্তাব আসলে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা যায়। ফাইল যাতে আটকে না থাকে, কোন প্রস্তাব আসলে তার বিষয়ে দ্রুত যেন সিদ্ধান্ত হয় এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন তিনি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাজের দীর্ঘ সূত্রিতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি দেশের উন্নয়নে সকল মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টিম ওর্য়াক গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
 
নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে পৃথক উইং করার পরামর্শ
 
সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরো সহজ করার জন্য পৃথক উইং করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরো সহজ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিক্ষক, চিকিত্সক ও পুলিশ নিয়োগের  ক্ষেত্রে। কারণ এগুলোতে বেশি সংখ্যক নিয়োগ দেয়া হয়। যেমন সামনে আমরা আরো পঞ্চাশ হাজার পুলিশ নিয়োগ দেবো। এজন্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনে প্রয়োজনে নতুন শাখা খুলে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরো ত্বরান্বিত করা যেতে পারে। প্রশাসনের শূন্য পদ পূরণের তাগিদ দিয়ে তিনি আরো বলেন,  একদিকে পদোন্নতি হচ্ছে অন্যদিকে কর্মসংস্থান শূন্য হচ্ছে। সেই শূন্য পদগুলো যেন খালি না থাকে। এ জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। 
 
ঢাকার বাইরেও আবাসনের ব্যবস্থার তাগিদ
 
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন তৈরিতে নিজেদের উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বছরের পর বছর আমাদের অনেক জমি পড়ে আছে। কাজ লাগিয়ে কর্মকর্তাদের আবাসন তৈরির ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু ঢাকা শহর নয়, ঢাকা বাইরেও কর্মকর্তাদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ব্যাপারে কেন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না? তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কাজ খুব শিগগিরই হবে। ইতিমধ্যে বেতন ও চাকুরি কমিশন-২০১৩’র সুপারিশ আমরা হাতে পেয়েছি।
অনুষ্ঠানে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, সিনিয়র সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।