সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দম্পতির কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ আগামী মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছাবে। বাদ আসর নামাজে জানাজ হবে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে। তারপর বনানী গোরস্তানে তাকে দাফন করা হতে পারে।
এদিকে আদরের পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর খবর পাওয়ার ২৮ ঘণ্টা পরও মা বেগম খালেদা জিয়া শোকে এখনো মূহ্যমান। নিস্তব্ধ-নির্বাক।
গুলশানে তার কার্যালয়ের আপন কক্ষে পরিবারের সদস্যরা আছেন তার সঙ্গে। তাদের সঙ্গে টুকিটাকি কথা বলছেন। কখনো কাতর দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছেন,বিলাপ করছেন প্রিয় সন্তানের জন্য।
তার সঙ্গে থাকা একজন জানান,চেতনানাশক ইঞ্জেকশনের প্রভাব এখনো কাটেনি পুরোমাত্রায়। রবিবার সন্ধ্যা অবধি ভালোভাবে চোখ মেলতে পারেননি তিনি। তার মাঝে যেটুকু পারছেন সুদূর কুয়ালালামপুরে মৃতদেহের সাথে অবস্থানরত কোকোর স্ত্রী এবং দুই কন্যাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
লন্ডণ থেকে পুত্রবধূ ডা.জোবাইদা রহমান,নাতনি জায়মা রহমান ফোনে কথা বলেছেন বেগম জিয়াকে নানাভাবে শান্তনা দিচ্ছেন তারা। তারেক রহমান তার মাকে শান্তনা দিচ্ছেন। সব ফোনের কণ্ঠে কেবল কান্নার হৃদয়বিদারক ধ্বনি। কুয়ালালামপুর থেকে তার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার ফোন করেছিলেন।
বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনার,রাস্ট্রদূত,দল,জোট এবং পরিবারের লোকজন সমবেদনা জানাতে গুলশানে তার অফিসে গেছেন। তবে কারো সঙ্গেই কথা বলছেন না তিনি। যারা আসছেন তারা কার্যালয়ের নীচে রক্ষিত শোক বইতে স্বাক্ষর করে ফিরে আসছেন।
মঙ্গলবার মরদেহ দেশে আসছে
আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল নয়টা ৪০ মিনিটে মালয়েশিয়ার এয়ারলাইন্সের এমইচ ১০২ ফ্লাইটে ঢাকায় পাঠানো হবে।মালয়েশিয়া বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন এ কথা জানান।
তিনি জানান, ইতিমধ্যেই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা প্রায় শেষ হয়েছে। সরকারি দপ্তরে আরো কিছু কাজ বাকি আছে যা সোমবারের মধ্যে শেষ হবে।
এর আগে রবিবার বাদ জোহর মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদে নাগাড়ায় কোকো প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজায় অংশ নেন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই ইঞ্জিনিয়ার শামীম এস্কান্দার,বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালু, খুলনার সাবেক এমপি আলী আজগর লবীসহ স্থানীয় প্রবাসী বিএনপির কয়েক হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী।
জানাজায় ইমামতি করেন মসজিদে নেগারার প্রধান ইমাম। জানাযার পর মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের হিমঘরে আরাফাত রহমান কোকোর মরদেহ সংরক্ষিত রাখা হয়। প্রসঙ্গত যে,গত শনিবার রাতে কোকোর মরদেহ দেশে আনতে তার মামা ইঞ্জিনিয়ার শামীম এস্কান্দার মালয়েশিয়া যান। তার সঙ্গে যান বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু। এ ছাড়া, সৌদি আরব থেকে মালয়েশিয়ায় গেছেন মোসাদ্দেক আলী ফালু।
পল্টনে হবে জানাযা
আরাফাত রহমান কোকোর নামাজে জানাজ আগামী মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত হবে। আর পরের দিন বুধবার সারা দেশে গায়েবানা জানাযা অনুষ্ঠিত হবে।
রবিবার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছেন দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি জানান, কোকোর মৃত্যুতে আজ সোম, কাল মঙ্গল ও বুধবার সারা দেশে শোক দিবস পালন করবে বিএনপি। শোক দিবস উপলক্ষে দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবেন।বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে শোক কর্মসূচি পালনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
