এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের দুই শীর্ষ নেত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়াকে সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি, বিকল্পধারা প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তা না হলে দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে গণঅনশনে বসার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। রবিবার রাজধানীর বারিধারায় নিজ বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন।
বি. চৌধুরী বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের স্বার্থে দুই নেত্রীকে আলোচনায় বসতেই হবে। বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রাণহানির সঙ্গে দেশের অর্থনীতিও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাই সমঝোতার জন্য দুই নেত্রীর সংলাপ এখন সাধারণ মানুষের দাবি। তিনি বলেন, দেশ নিয়ে সাধারণ নাগরিকরা সবাই উদ্বিগ্ন। কারণ দুই নেত্রী কথা বলছেন না। দেশের জ্যেষ্ঠ নাগরিক হিসেবে দুই নেত্রীকে বলব-যদি রাজনীতিতে থাকতে চান তবে সব সংঘাত-বিভেদ ভুলে যান। আলাপ করুকন, আপনাদের কথা বলতেই হবে।
আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে শোকাহত বিএনপি চেয়ারপারসনকে সমবেদনা জানাতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে ফিরিয়ে দেয়া এবং এর আগে খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পুলিশের তালা দিয়ে তাকে বেরোতে না দেওয়া- দুটোই ‘সমান অপরাধ’ বলে মন্তব্য করে অধ্যাপক বি. চৌধুরী। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সেখানে পলিটিক্স বা আলোচনার জন্য যাননি। একজন মা হয়ে আরেকজন মাকে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলেন।এটা রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক।
বিকল্পধারা প্রেসিডেন্টের মতে, সব দলের অংশগ্রহণে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক সংকট কাটবে না। প্রধানমন্ত্রীর অধীনেও নির্বাচন হতে পারে, তবে তা নিরপেক্ষ হতে হবে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের আগামী এক বছর পাল্টাপাল্টি কটূক্তি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো কু-কথা বলবেন না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে যারা কটূক্তি করছে তারা ভুল পথে আছে। এটি জনগণ চায় না।
