বামন গ্রহাণু ‘সেরেস’ কক্ষে মহাকাশযান ডন

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৫, ১৩:৫৯
মার্কিন মহাকাশ সংস্থা’র ডন মহাকাশযান সেরেস, (ceres) গ্রহ মঙ্গল এবং বৃহস্পতির মাঝখানে বৃহৎ পরিমণ্ডলের অসংখ্য গ্রহাণুর মধ্যে একটির দিকে এগিয়ে চলছে। খবর বিবিসি’র।
বামন গ্রহটির কক্ষপথে গিয়ে যন্ত্রযানটি স্যাটালাইটটিকে সঠিক জায়গায় রাখতে সাহায্য করবে।
জার্মান ক্যামেরা দল একটি ছোট সিনেমা তৈরি করেছে যেখানে ৯৫০ কি.মি-চওড়া গ্রহটির অক্ষের অংশে-ঘূর্ণ্যমাণ দেখাচ্ছে।
মাসের শেষে এসে মর্মনিরীক্ষণের ছবিগুলো ভালোর দিকে থেকে হাবল (Hubble) টেলিস্কোপে তোলা ছবিগুলোকেও ছাড়িয়ে যাবে।
মাত্র চার লাখ কি.মি ক্ষমতার ভিন্নতায় এই মুহূর্তে, বিখ্যাত মহাকাশ টেলিস্কোপ ৮০ ভাগ তীক্ষ্ণতায় (sharp) ছবি তুলতে পারে।
সেরেস হবে খুব নিকটে ভ্রমণ করা প্রথম কোন বামন গ্রহ। জুলাই মাসে নাসার নতুন হরিজন মহাকাশযান প্লুটোর মধ্যে উড়বে।
সৌরজগতে বামন গ্রহ হলো দৃশ্যমান নির্দিষ্ট শ্রেণীর বস্তু- পৃথিবী এবং গ্যাস জায়ান্ট বৃহস্পতির মতো স্থলজ অভ্যন্তরীণ গ্রহের পর।
গ্রহ মঙ্গল এবং বৃহস্পতির মাঝখানে বৃহৎ পরিমণ্ডলের অসংখ্য গ্রহাণুর ভ্রমণের পর সেরেস’র দিকে ডন এগিয়ে যাচ্ছে। এটি দেখতে চুপসে যাওয়া ফুটবলের মতো ৫৩০কিমি চওড়া শিলাখণ্ড। বিশাল সংঘর্ষের ফলশ্রুতিতে অতীতে কখনো এর দক্ষিণ মেরু অঞ্চল একটানে খণ্ড হয়ে যায়।
অন্যদিকে অধিক গোলাকার আকৃতির গ্রহাণু সেরাস অভিকর্ষের মাধ্যমে মহাশুন্যযান ডনকে টেনে নিতে যথেষ্ঠ বড় ।
বিজ্ঞানীরা মনে করেন উভয়ই নতুন কাজ করতে শুরু করেছে যেটা কখনোই পুরোপুরি বেশি সময়ের জন্য হয় নাই।
মোমের (Vesta) কারণে একই রকম অনেক কর্মপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া আভা গ্রহাণুটিকে প্রাকপৃথিবীতে রূপান্তর করেছে। এরকম যে পৃথকীকরণের জন্য এটার ভিতরে লোহার আবরণ যুক্ত।
গবেষকরা বিশ্বাস করেন বরফের উচ্চতায় শিলাময় প্রলেপে গ্রহাণুটির অভ্যন্তরীণ ভাগ শাসিত হচ্ছে যেটা পরে এর ভূপৃষ্ঠে শিলাময় ঢাকনার সঞ্চিতি হিসেবে আলাদা করে রাখে। একটি বড় প্রশ্নের উত্তর পেতে অভিযানপরিচালনাকারীরা আশা করছেন। যেটা হচ্চে গ্রহাণুটির গভীরে পানির তরল সমুদ্র রয়েছে কীনা। সেখানে কিছু প্রতিরূপের দৃশ্য আশাব্যঞ্জক হওয়ার মতো।
ডন গ্রহাণু সেরেসের অক্ষে ১৬ মাস গবেষণা ভার নেয়ার কথা। কিন্তু টেলিস্কোপ হাবলের সেরা মর্মনিরীক্ষণ কর্মদক্ষতার ওপর এটা নির্ভর করবে।
নির্দিষ্ট অবস্থান সনাক্তে ব্যবহৃত যানটি চার পাশ্বপ্রতিক্রিয়া চাকার দুইটি হারিয়েছে। ফলশ্রুতিতে সঠিক দিক নির্দেশনার জন্য যানের ছোট রকেটে আগুন দিতে হবে, কিন্তু যানটির হাইড্রযিন জ্বালানি সরবরাহ করতে এটা একটি নালায় রাখা হয়। যদি সবকিছু কাজ করতে থাকে তাহলে ভূপৃষ্ঠ হতে ৪০০ কি.মি নিচে থেকে গবেষণা করা হবে।
যখন পরিশেষ অভিযানে যাওয়ার সময় হয় ডন গ্রহাণু সেরেসকে পরিভ্রমণ ত্যাগ করতে থাকবে।
সহকারী মুখ্য তদন্তকারক ক্যারোল রাইমোন্ড বিবিসিবে বলেন, শত বর্ষের জন্য তারা এ কাজের আদল শেষ করেছে এবং এটা খুবই সুস্থিত উপগ্রহ হবে। আমরা হবো গ্রহাণু সেরেসের বিরতিহীন স্যাটালাইট।