সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যালা নদী বর্তমানে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।
সোমবার দশম জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র্য সংসদ সদস্য মো. রুস্তম আলী ফরাজীর তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ৩৪৭’র জবাবে এ তথ্য দেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, ট্যাঙ্কার দুর্ঘটনার পর প্রায় ৩ লাখ ৫৮ হাজার লিটার ফারনেস অয়েল পানিতে নিঃসৃত হয়। এতে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী, বৃক্ষ ও জীববৈচিত্রের ওপর ক্ষতির সম্ভাবনা আছে। তবে বন বিভাগের স্থানীয় বনজীবীদের তাত্ক্ষণিক সহায়তায় ১০ দিনব্যাপী ২০০টি নৌকার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তেলের ৬৮ হাজার ২০০ লিটার তেল সংগ্রহ করতে সমর্থ হয়। বর্তমানে নিঃসৃত তেল ভাসমান অবস্থায় আর দেখা যাচ্ছে না।
মন্ত্রী বলেন, এই তেলে ম্যানগ্রোভ বনের ওপর দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে ঐ সময় ১০/১৫ দিন মত্সজীবীরা নদীর ঐ অংশে তেমন মাছ পাননি। ইতোমধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে এসেছে।
এছাড়া বনের ও ক্ষয়ক্ষতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে নিঃসৃত তেলের অংশ সুন্দরবনের মাটিতে, পানিতে এবং গাছ-গাছালির মধ্যে মত্স্য বা বন্যপ্রাণির দেহে প্রবেশ করছে কিনা বা তাদের স্বাভাবিক আচরণে কোনো পরিবর্তন আনছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে মনিটরিং করতে হবে। ইতোমধ্যে দীর্ঘমেয়াদী মনিটরিংয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী সংসদকে জানান, এমন র্দুর্ঘটনা পৃথিবীর সব জায়গায় ঘটে। ওই এলাকায় আমিও গিয়েছিলাম। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা সেখানে গিয়েছিল। তবে যে মাত্রায় ক্ষতির আশংকা করা হয়েছিল, তা হয়নি। বর্তমানে সীমিত আকারে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা আছে।
জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরিদুল হক খানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, সব ধরনের বিপর্যয় হতে রক্ষার জন্য সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও সুন্দরবনের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এলাকাকে রক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দারের প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনে বনদস্যুতা দমনের জন্য ২০১২ সালে র্যাব, কোস্টগার্ড, পুলিশ, নৌবাহিনী, বিজিবি, বনবিভাগের সমন্বয়ে জাতীয় ট্যাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। বনদস্যু দমনে সুন্দরবনের সুপতি, কচিখালী, কোকিলমনি, আলোরকোল (দুবলায়) কোস্টগার্ডেও ৪ টি স্টেশন/আউটপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। বর্ডারগার্ড বাহিনীরও ভাসমান ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। বনবিভাগের ক্যাম্পসমূহে জনবল ও অস্ত্র-গোলাবারুদ দিয়ে শক্তিশালী করা হয়েছে, টেলিটক এর নেটওয়ার্ক চালু করা হয়েছে।
শামীম ওসমানের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তার পাশের গাছ কেটে ব্যারিকেড সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হয়েছে। এ বিষয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এজাহার করা হয়েছে। কোনো কোনো আদালতে বন আইনে মামলাও হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যাতে গাছপালা কর্তন করা না হয় সে লক্ষে বনবিভাগের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাইকিং করা হয়েছে, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় স্ক্রল প্রচার করা হয়েছে। অবৈধ গাছ আহরণকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত বন আইন ১৯২৭ এবং বনজদ্রব্য পরিবহন (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০১১ এর অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে।
