ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে পেট্রোল বোমাসহ বিভিন্ন হামলায় আক্রান্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সরকারের পক্ষ থেকে আক্রান্তদের আর্থিক সহায়তা, উন্নত চিকিত্সা সেবা, আরও উন্নত চিকিত্সার জন্য বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সরাসরি, রেফার্ড ও ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮৭ জন। ঢাকা সম্মিলিত সামারিক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিন জন। দেশের অন্য হাসপাতালে রয়েছেন আরও ১শ’ ৩০ জন রোগী। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন ১১ জন (২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত)।
প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে ঢাকার সব রোগীকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাত খরচ হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন। ঢাকার বাইরে ভর্তি অনেককেই আওয়ামী লীগ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদান পৌঁছে দিয়েছেন। রাজশাহী, সিলেট, রংপুর, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় আওয়ামী লীগ নেতারা রোগীদের নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছেন। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন এসব রোগীদের ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং নির্দেশ দিচ্ছেন প্রয়োজনীয় সবকিছু করার। সরকারের পক্ষ থেকে এ পর্যন্ত দু’জন রোগীকে উন্নত চিকিত্সার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে। ব্যবস্থা করা হচ্ছে আরও দু’জনকে পাঠানোর।
ফেনীতে এসএসসি পরীক্ষার্থী মিনহাজুল ইসলাম অনিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল কাদেরকে চোখে মারাত্মক আঘাত থাকায় ভারতের চেন্নাইয়ের শংকর নেত্রালয়ে পাঠানো হয়েছে। একই জেলায় দগ্ধ এসএসসি পরীক্ষার্থী শাহরিয়ার হূদয় ও গাইবন্ধার ট্রাক ড্রাইভার মো. লিটন মিয়াকে চেন্নাই পাঠানো প্রক্রিয়াধীন। এদের প্রত্যেকের দেখ-ভাল প্রধানমন্ত্রী সরাসরি করছেন। এমনকী প্রধানমন্ত্রী চেন্নাইয়ে পত্র দিয়েছেন। এছাড়া ঢাকায় যেসব রোগী রয়েছেন তাদের সঙ্গে একজন স্বজনের হাসপাতাল থেকে খাবার সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। চিকিত্সার ব্যয়ভারও বহন করছে সরকার।
হাসপাতাল ত্যাগের পর যাতে চিকিত্সা ব্যাহত না হয় তার জন্যও প্রধানমন্ত্রী আর্থিক অনুদান দেবেন। স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে আহতদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে নির্দেশ নিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আহতদের পরিবারের জন্য ভিজিএফ কার্ডের ব্যবস্থা নিচ্ছেন। বার্ন ইউনিট শয্যার তুলনায় রোগীর আধিক্যের কারণে অতিরিক্ত নার্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে ও অতিরিক্ত চিকিত্সকের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০ জন অতিরিক্ত চিকিত্সক ও ২০ জন নার্স পদায়ন করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ের একজন পরিচালককে সার্বক্ষণিক দেখা-শোনার দায়িত্ব দিয়েছেন, তিনি যেখানে যা প্রয়োজন তার ব্যবস্থা নিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে।
