বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ছেলে হারানোর ব্যথা নিশ্চয়ই তিনি এখন অনুভব করছেন। এখন যেন উনি সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে আর কোনো মায়ের বুক খালি না করেন। তার ছেলের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। সেই শোক তিনি সইতে পারছেন না। সেখানে সুস্থ মানুষকে, বিশেষ করে শিশু ও বাবা-মাকে যখন পেট্রোলবোমায় পুড়িয়ে মারা হয়, তখন তারা কীভাবে শোক সহ্য করবেন! তাছাড়া এটা তো গুনাহ ও জঘণ্য অপরাধও।’ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৯ আসনের তাজুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
একই প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়াকে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘পুত্রহারা খালেদা জিয়া কষ্টে ধুকছেন। অসুস্থ ছেলে মারা যাওয়ায় যদি তাকে ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখতে হয়, তাহলে আগুনে পুড়িয়ে যাদের মারা হচ্ছে-তাদের বাবা-মা কীভাবে শোক সইবেন! একজন মা যখন সন্তান হারিয়ে আহাজারি করেন, তখন ওনার কেমন লাগে। এখনও কী তিনি মানুষ পুড়িয়ে মারা থেকে বিরত থাকবেন না! বুঝবেন না! এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০ দল মানুষ পুড়িয়ে মারছে। তাদের কাজই ধ্বংস করা, জ্বালাও-পোড়াও করা। গত বছর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগেও তারা রাস্তা-ঘাট ও গাছ কেটেছে, গাছ ও গরু পর্যন্ত পুড়িয়েছে। এমনকি কোরআন শরিফও পুড়িয়েছে। চলন্ত বাসে ককটেল মেরে মানুষ মারার মতো জঘন্য কাজ তারা করছে। তিনি বলেন, অপকর্ম করেন খালেদা জিয়া। কিন্তু কিছু লোক আছে যারা দোষ দেয় আমাদের। আমাদের কি দোষ! পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনের পর তো আমরা চমত্কার পরিবেশে দেশের উন্নয়ন করে যাচ্ছিলাম। হঠাত্ কথা-বার্তা নেই, তারা আন্দোলনের নামে মানুষ মারা শুরু করলো। সর্বস্তরের মানুষ আজ তাদের ওপর অতিষ্ঠ। বিএনপি জঙ্গি ও খুনি দল।
দেশের মহাসড়কগুলোতে যেন দুষ্কৃতিকারীরা আর যানবাহনে আগুন দিতে না পারে, সেজন্য সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী সন্ত্রাসীই। বাংলাদেশের মানুষকে এভাবে পুড়িয়ে মারা আর সহ্য করা হবে না। সন্ত্রাসীদের ধরতে সব স্থানে ক্যামেরা বসানোও সম্ভব নয়। আমি মনে করি প্রতিটি মানুষের এক জোড়া চোখও ক্যামেরা, তারাও যেন এ ব্যাপারে সচেতন ও সতর্ক থাকেন।
গেইটে তালা দিয়ে ঢুকতে না দেয়া কোন সংস্কৃতি?
আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু সংবাদ পেয়ে গত শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে গিয়েও ফিরে আসার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘ওনার ছেলে মারা যাওয়ার খবর পেয়ে ব্যথা নিয়ে আমি ছুটে গিয়েছিলাম। বড় গেটে তালা বন্ধ থাকায় আমার গাড়ি ভেতরে ঢুকতে পারেনি। পরে নিজেরা নিরাপত্তার কথা না ভেবে আমি গাড়ি থেকে নামি, ভেবেছিলাম ছোট গেট দিয়ে ঢুকবো। দেখি সেটিতেও তালা। এটা কোন ধরনের সংস্কৃতি? আমাদের বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে কেউ কি এই ব্যবহার করে!’ তিনি বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনের আগেও আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছি তাদেরকে নির্বাচনে আনার। সেজন্য নিজে বিএনপি নেত্রীকে ফোনও করেছিলাম। কিন্তু আমাকে শুনতে হলো ঝাড়ি আর গালাগালি।
আদালত নিজেদের পদোন্নতি ও বেতন নির্ধারণের রায় দিতে পারে না
জাতীয় পার্টির (জাপা) সেলিম উদ্দিনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্ট সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, কার পদমর্যাদা কী হবে, সংবিধানে তা সুনির্দিষ্ট করা আছে। কেউ তো নিজেরদ পদোন্নতি বা পদমর্যাদার ঘোষণা নিজে নিজে দিতে পারে না। তাহলে আদালত কীভাবে নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য নিজেদের পদোন্নতির নির্দেশ দেয়, কীভাবে নিজেদের বেতন নিজেরাই ঠিক করে রায় দিতে পারে। এটা তো এথিকেসরও পরিপন্থী। তাহলে তো যে কেউ নিজে নিজে নিজেরে পদমর্যাদা বাড়িয়ে নিতে পারেন। প্রশাসনেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। নির্বাহী বিভাগ ও বিচারবিভাগের মধ্যে সমন্বয় থাকা দরকার। তিনি বলেন, সম্প্রতি বলা হলো জেলা জজদের পদমর্যাদা নাকি সচিবের হবে। তাহলে উচ্চ আদালতের বিচারকদের পদমর্যাদা তো একসময় রাষ্ট্রপতির উপরে হবে। এটা তো দুঃখজনক। বিষয়টি কি করা যায় তা নিয়ে আমরা আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছি।
আওয়ামী লীগের আ.খ.ম জাহাঙ্গীরের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্যাডার হয়ে গেছে। এখন আর ল্যান্ডক্যাডার করার দরকার নেই। জমিজমা নিয়ে যেন খুন-খারাবি ও মামলা-মোকদ্দমা কমে সেজন্য বিষয়টি ডিজিটাল করা হয়েছে। জিল্লুল হাকিমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনা করেই গঙ্গা ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে।
স্বতন্ত্র্য সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা বাঙালি-ভাত খাই। সেজন্য আমাদের ডায়াবেটিস হয়। দেশে রাস্তাঘাটও বেশি হয়ে গেছে, সবাই গাড়িতে যায়, হাটাহাটি কম করেন। সেজন্যও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই রোগ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।
