সংশোধিত সংবিধানের মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: খন্দকার মাহবুব

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৫, ২০:৩৪
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ তাদের মতো করে সংবিধান সংশোধন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বর্তমান সংবিধানের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বর্তমান সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে। দমন-পীড়ন বন্ধ করে আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ আগামী জাতীয় নির্বাচন পরিচালনার জন্য সকল দলের সমন্বয়ে একটি জাতীয় ঐক্যমতের সরকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন।
 বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে সুশীল সমাজের ব্যানারে ‘চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট: উত্তোরণের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এ অভিমত দেন। প্রস্তাবে ওই সভায় উপস্থিত  নাগরিকরা সমর্থন জানান।
খন্দকার মাহবুব বলেন, দেশ একটি ক্রান্তিকাল অত্রিকম করছে। এ অবস্থায় চুপ করে থাকলে চলবে না। সরকার যদি ক্ষমতার মোহ ত্যাগ না করে তাহলে সংকট আরো ঘনীভূত হবে। অধ্যাপক এমাজউদ্দীন বলেন, জাতীয় ঐক্যমতের সরকারের প্রধান কাজ হবে প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সবার অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন অনুষ্ঠান। সবার অংশগ্রহণমূলক বিশ্বাসযোগ্য স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই জাতিকে বর্তমান মহাসঙ্কট থেকে উত্তরণে সহায়তা করতে পারে। ওই ঐক্যমতের সরকারের প্রধান দায়িত্ব ও কতর্ব্য হবে নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন এবং বিচার বিভাগসহ সকল সাংবিধানিক এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থবহ সংস্কারের মাধ্যমে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা।
সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ বলেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ছাড়া অন্য কোন তন্ত্রের সুযোগ আছে বলে মনে করি না। প্রশাসনে যেভাবে দলীয়করণ করা হয়েছে তাতে পরিবর্তন না আনা গেলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার বলেন, বাংলাদেশ ভয়ঙ্কর পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। ধীরে ধীরে আমরা আফগানিস্তান-ইরাকের মতো পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছি। পেট্রোল বোমা থেকে গ্রেনেডের দিকে যেতে বেশি সময় লাগবে না। এ অবস্থায় ভেতর অথবা বাইর থেকে তৃতীয় শক্তির আর্ভিভাব ঘটতে পারে।
সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজীর সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা কাজী সেলিম উদ্দিন, কবি ও সাংবাদিক আব্দুল হাই সিকদার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক আবদুল মান্নান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সুকোমল বড়ুয়া, আইনজীবী তাজুল ইসলাম প্রমুখ।