মুসার সম্পদ অনুসন্ধানে বৈশাখী টিভির ডিএমডিকে জিজ্ঞাসাবাদ

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৫, ২০:৫৮
আলোচিত অস্ত্র ব্যবসায়ী ও ড্যাটকো গ্রুপের চেয়ারম্যান মুসা বিন শমসেরের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান ও অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বৈশাখী টেলিভিশনের ডিএমডি টিপু আলমকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
 বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
সূত্রটি জানায়, অনুসন্ধানে মুসা বিন শমসেরের সঙ্গে ব্যবসায়ী টিপু আলমের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় অনুসন্ধানের প্রয়োজনে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এর আগে মুসার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ বিষয়ে আরেক ব্যবসায়ী শহীদুল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, বিজনেস ম্যাগাজিন ফোর্বস এর প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে ২০১১ সালে মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। তবে অজ্ঞাত কারণে দুদকের এ অনুসন্ধান আলোর মুখ দেখেনি। দীর্ঘ তিন বছর পর চলতি বছরের ‘বিজনেস এশিয়া’ ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে অবারও নতুন করে অনুসন্ধানে নামে দুদক।
বিজনেস এশিয়া ম্যাগাজিনে মুসাকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি এই ধনাঢ্য অস্ত্র ব্যবসায়ীর সাত বিলিয়ন ডলার সুইস ব্যাংকে আটকে আছে। যা বাংলাদেশি অর্থে প্রায় ৫১ হাজার কোটি টাকা। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ উপমহাদেশে প্রিন্স মুসা শীর্ষস্থানীয় বর্ণাঢ্য ব্যক্তি যিনি এক বিলিয়ন পাউন্ড উপার্জন করেছেন ট্যাঙ্ক, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র বেচাকেনার ব্যবসা করে।
২০১১ সালে প্রকাশিত ফোর্বস ম্যাগাজিনে বলা হয়, মুসা বিন শমসেরই বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি। তার সম্পত্তির মূল্য প্রায় ১২ বিলিয়ন ইউএস ডলারের ওপরে। তিনি অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক পরিচিত।
মুসা বিন শমসের ১৯৯৭ সালে যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে অনুদান দিতে চেয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন। লেবার পার্টির প্রার্থী টনি ব্লেয়ার নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর জন্য তার পাঁচ মিলিয়ন ডলার অনুদান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
দুদক সূত্র আরও জানায়, ২০১১ সালের ২৪ জুন মুসার যাবতীয় ব্যাংক হিসাব তলব করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দুদকের চাহিদার ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুসার ব্যাংক হিসাব তলব করলেও রহস্যজনক কারণে এর কোনো অগ্রগতি হয়নি।
এরপর এবছর নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এর ধারাবাহিকতায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
উল্লেখ্য, দুদকের সিনিয়র উপ-পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী মুসা বিন শমসেরের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছেন।