জাতীয় পাটি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, দুটি দলই দেশে আগুন দিয়েছে। এখন যে আগুন জ্বলছে, দুটি দল তা নেভাতে পারবে না। জনগণই এই আগুন নেভাবে, দুই দলকেই না বলবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত কয়েক ঘণ্টার প্রতীকী অনশন কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
সহিংসতা, জ্বালাও-পোড়াও ও দমন-পীড়নের প্রতিবাদে ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) জাপা সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই কর্মসূচির আয়োজন করে। দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়ক দখল করে মঞ্চ ও বিশাল সামিয়ানা টানিয়ে কর্মসূচি পালন করা হয়। মঞ্চে দুটি চেয়ারে বসেছিলেন এরশাদ ও তার ছোট ভাই জিএম কাদের। অন্য নেতারা মঞ্চে বসলেও তাদের জন্য চেয়ার ছিল না। হাজার-বারোশ দলীয় নেতা-কর্মী এতে অংশ নেন। সামিয়ানার অনেকাংশই ছিল ফাঁকা। প্রতীকি অনশন চললেও উপস্থিত নেতা-কর্মীদের অনেককেই আশপাশের হোটেল-রেস্তোরাঁয় মধ্যাহ্নভোজ খেতে দেখা গেছে। বিকেল চারটার দিকে এরশাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়। দুটি ছোট শিশু এরশাদকে পানি করিয়ে অনশন ভঙ্গ করায়।
এরশাদ তার বক্তব্যে বলেন, শেরেবাংলানগর ও সংসদ ছাড়া দেশের কোথাও এখন গণতন্ত্র নেই। রাজনীতিতে শিষ্টাচার, পরস্পররের প্রতি শ্রদ্ধাবোধও বিদায় নিয়েছে। ক্ষমতার লোভে আমরা এতটাই দম্ভ করছি যে, আর কিছুদিন পরে মনে হয় আমরা এক মসজিদে নামাজও আদায় করতে পারবো না। শিষ্টাচারবর্জিত ঘৃণিত রাজনীতি করছি আমরা।
স্লোগান দিয়ে জাপা চেয়ারম্যান ‘ধ্বংসের ও জ্বালাও-পোড়াওর রাজনীতির দিন শেষ, এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ’, ‘জ্বলছে মানুষ-পুড়ছে দেশ, রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ক্ষমতার দ্বন্দ্বে আর কতদিন পুড়ে মরবে, এবার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এর প্রতিবাদ করতে হবে।
জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, রাজনীতি ও সহিংসতা একসঙ্গে চলতে পারে না। সহিংসতাকে রাজনীতি থেকে বাদ দিতে হবে। রাজনীতি নিশ্চয়ই থাকবে, মত প্রকাশের সম্পূর্ণ অধিকারও থাকতে হবে। দলের মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, অহিংস রাজনীতির মাধ্যমে সহিংসতার রাজনীতির কবর রচনা করতেই এই অনশন। গণতন্ত্র মানে সবার সমান অধিকার থাকবে, সবার সভা-সমাবেশের অধিকার থাকবে। আলোচনায় বসার ডাকে যারা সাড়া দেবে না, যারা দমন-পীড়নের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে চাইবে, জনগণই তাদের রুখে দেবে।
জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদের বলেন, দেশ একটি সংকটময় মুহূর্ত অতিক্রম করছে। মানুষকে পুড়িয়ে মারা হচ্ছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতেও মানুষ মরছে। সরকার প্রতিদিনই বলছে- সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু সরকার ঠিক করতে পারেনি। ওমুক দলকে সন্ত্রাসী বলে তাদের সঙ্গে আলোচনা হবে না-এই ধরনের কথা বলবেন না। প্রতিপক্ষকে যদি শত্রু মনে করেন, তাহলে এই হানাহানি থামবে না। কর্মসূচিতে সভাপতিত্বকারী ও ঢাকা মহানর (দক্ষিণ) জাপার আহ্বায়ক সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা বলেন, এভাবে দেশ চলতে পারে না। এই দেশ কোনো দল বা গোষ্ঠীর নয়। সাতদিনের মধ্যে নিবন্ধিত সকল দলকে নিয়ে আলোচনায় না বসলে জনগণ মুক্তিযুদ্ধের মত আবার গর্জে উঠবে। কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- মুজিবুল হক চুন্নু, এসএম ফয়সল চিশতি, মীর আব্দুস সবুর আসুদ, সুনীল শুভরায়, রিন্টু আনোয়ার, এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া, অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজু, দিদারুল আলম দিদার, আরিফ খান ও জহিরুল আলম জহির প্রমুখ।
