বিবিধমুখী বিনিয়োগ ও উত্পাদন বান্ধব সংস্কারকে জোরদার করা হবে। সরকারের উন্নয়ন কৌশলের সমর্থনে দেশের আর্থিক খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধন অর্থায়ন যোগানো হবে। এজন্য নতুন অর্থবছরের প্রথমার্ধের ঘোষিত মুদ্রানীতি আগেকার ধারাবাহিকতায় ভোক্তা মূল্যস্ফীতি পরিমিত ও স্থিতিশীল রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন মুদ্রানীতি মুদ্রা ও পুঁজিবাজারকে স্বস্তিকর স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে। দেশের রাজনৈতিক অবস্থার উন্নতি হলে মুদ্রানীতির প্রথমার্ধের প্রক্ষেপিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সক্ষম হবে। একইসঙ্গে তাতে সরকার গৃহীত প্রয়াস ও উদ্যোগে অর্থপূর্ণ সহায়ক অবদান রাখবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর ড. আতিউর রহমান মুদ্রানীতির ঘোষণাপত্রে এসব কথা বলেন।
চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে গভর্নরের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাডভাইজার আল্লাহ মালিক কাজেমী, ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী ও প্রধান অর্থনীতিবীদ বিরূপাক্ষ পাল সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্য ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালকরাসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, বার্ষিক গড় মহূল্যস্ফীতি এখনও সাড়ে ৬ শতাংশের ওপরে থাকা, কোর মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় থাকা এবং চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতাজনিত বৈরি প্রভাবের প্রেক্ষাপটে অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের মুদ্রানীতিতে নতুন কোনো শিথিলতা বা কঠোরতা না এনে আগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন,এবারের মুদ্রানীতির প্রধান চারটি বৈশিষ্ট হিসেবে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রা সরবরাহ কৌশল, অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি, বিনিয়োগবান্ধব এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। মুদানীতির ভঙ্গি আগের মত থাকলেও বিনিয়োগে অনেক বেশি চাহিদা তৈরি হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নমনীয় হবে নীতি পালন করবে বলে জানান গভর্নর।
গভর্নর বলেন, ২০১৩ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর অনিশ্চয়তার কারণে বেশ কিছু দিন আশানুরুপ বিনিয়োগ হয়নি। তবে গত নভেম্বরন ও ডিসেম্বরে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার শুরু হয়। বিনিয়োগ ও উত্পাদনে নতুন গতি সমগ্র অর্থবছরের জন্যে ৬ দশমিক ৫ থেকে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অতিক্রমের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়েছিল। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনায় অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে। এটি অব্যাহত থাকলে পণ্য সরবরাহ বাধাগ্রস্থ হয়ে প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।
