প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নারীদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছাড়া সমাজের কোন ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। সমাজের অর্ধেক জনসংখ্যাই নারী। বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও ব্যবসা বাণিজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছেন নারীরা। নিজেদের শ্রম, মেধা এবং দক্ষতা দিয়ে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নারীরা এগিয়ে চলছে সর্বক্ষেত্রে। সেনাবাহিনীর মত একটি চ্যালেঞ্জিং পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যে দেশের নারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রেরণা দিয়েছেন সেই বাংলাদেশের নারীরা কোনদিন পিছিয়ে থাকবে না। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নবীন সৈনিকদের নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের ঘাটাইল শহীদ সালাউদ্দিন সেনানিবাসে আর্মি মেডিকেল কোর সেন্টার এন্ড স্কুলে প্রথম প্রশিক্ষণার্থী মহিলা রিক্রুট ব্যাচের শপথগ্রহণ ও প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনীর প্রধান ইকবাল করিম ভূইয়া। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আর্মি মেডিকেল কোরের একটি চৌকস মহিলা কন্টিনজেন্টের চিত্তাকর্ষক মার্চপাস্ট প্রত্যক্ষ করেন। প্রধানমন্ত্রী একটি খোলা জীপে চড়ে সেনানিবাসের শহীদ বীরউত্তম সিপাহী নূরুল হক প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া ও আর্মি মেডিকেল কোর সেন্টার ও স্কুলের কম্যান্ডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী আবুল কালাম আজাদ। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৮৭৯ জন মহিলা নবীন সৈনিক হিসেবে প্রথমবারের মত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভূক্ত হল। সেনাবাহিনীতে এতদিন বিভিন্ন কোরে নারী অফিসার থাকলেও সৈনিক হিসেবে অন্তর্ভুক্তি এই প্রথম। এছাড়া বিশ্বের ইতিহাসে একই সঙ্গে মহিলা সৈন্যদের শপথগ্রহণ ও প্রশিক্ষণ সমাপনীর এটাই সবচেয়ে বড় কন্টিনজেন্ট। মহিলা রিক্রুট ব্যাচের মেমোরি হাসান ১ম এবং শান্তা রানী মণ্ডল ২য় শ্রেষ্ট রিক্রুট হিসেবে বিবেচিত হন। এই ৮৭৯ জন মহিলা নবীর সৈনিকের অধিকাংশের পরিবারই গরীব। কারো কারো বাবা-মা খেটে খাওয়া, দিনমজুর। এই পরিবারগুলোর ভাগ্য পরিবর্তন হলো।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত সৈনিক হিসেবে আপনারা বৃহত্তর কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। আপনাদের উপর ন্যাস্ত হচ্ছে দেশমাতৃকার মহান স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার দায়িত্ব। ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল এন্ড হেলথ টেকনোলজি সম্পন্ন করে সেনাবাহিনীর চিকিত্সাসেবায় বাংলাদেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বেন। সেবার মহান ব্রত নিয়ে আজ আপনারা যে শপথ করলেন তা আপনাদের আত্মত্যাগ, পেশাদরিত্ব ও দায়িত্বের প্রতি একাগ্রতার মাধ্যমে এবং দেশের আপামর জনসাধারণের চিকিত্সাসেবায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
