ট্যানারির বর্জ্য দিয়ে মুরগি ও মাছের খাবার (ফিড) তৈরির অপরাধে মালিকসহ চারজনকে দ্ল দিয়েছে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। কারখানাটি সিলগালা করে দেয়ার পাশপাশি ৫০ হাজার কেজি বিষাক্ত খাবার জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
দুপুর আড়াইটার দিকে হাজারীবাগ বেড়িবাধ এলাকার ঝাউচরে পুতুল এন্টার প্রাইজ নামক অবৈধ ফিড কারখানায় র্যাব-২ এর অভিযানে চারজনকে তাত্ক্ষণিকভাবে দণ্ডিত করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরা হলেন- কারখানার মালিক আবুল কালাম, কারখানার কর্মী মোজাফফর রহমান, হাসান শেখ ও ফারুক হাওলাদার। র্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আনোয়ার পাশা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ডা. মো. লুত্ফর রহমান।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান,বর্জ্য দিয়ে তৈরি এর মাধ্যমে মারাত্মক ক্ষতিকর ক্রোমিয়াম এই ফিডের মাধ্যমে মানবদেহে প্রবেশ করছে। এ ফিডের একটা বড় অংশ মাছ বা মুরগির শরীরে জমা হতে থাকে। এমনকি ডিমেও জমা হয়। এই ফিড খাওয়া মাছ, মুরগি বা ডিম খেলে মানুষের শরীরে ক্রোমিয়াম প্রবেশ করে নানা রোগ সৃষ্টি করে। এর মধ্যে রয়েছে— ক্যান্সার (বিশষত ফুসফুস ক্যান্সার), টিউমার, পাকস্থলি/ক্ষুদ্রান্ত্র আলসার, পুরুষত্বহীনতা, অকাল প্রসব, বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম, এজমা, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ প্রভৃতি। তাছাড়া শিশু ও সংশিষ্ট শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।
ভ্রাম্যমাণ আদালত আবুল কালামকে দুই বছরের কারাদণ্ড এবং ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করে। জরিমানা অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং বাকি তিনজনকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
