খালেদার বাসা-অফিসের পানি-বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে: নৌমন্ত্রী

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৫, ২২:১৩

 

নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেছেন, যে আগুন জ্বালিয়েছেন, সে আগুনে আপনাকে পুড়তে হবে। আপনার শেষ রক্ষা হবে না। জনগণ আপনার বিচার করবে। ১৪ লাখ এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দিকে তাকিয়ে হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার করুন। পুড়ে যাওয়া গাড়ি দিয়ে গুলশানের অফিস ঘেরাও করে রাখা হবে। নইলে আপনার বাড়ি ও অফিসের বিদ্যুত্ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। খাদ্য-পণ্য সরবরাহ বন্ধ করা হবে। শ্রমিক-কর্মচারী-জনতার অবরোধে অবরুদ্ধ হতে হবে। না পাবেন খেতে, না পারবেন পালাতে।
তিনি বলেন, মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। শিল্প-কারখানা ধ্বংসের পথে। শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। খালেদা জিয়া ছেলের মৃত্যুতে ইঞ্জেকশন নিয়ে ঘুমিয়েছেন। আর এত মায়ের বুক খালি হল, তারা তো ঘুমাতে পারছেন না। ত্
শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবি-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শুক্রবার বিকালে রাজধানীর সোহওয়ার্দী উদ্যানে এই সমাবেশে হরতাল-অবরোধ-সহিংসতার প্রতিবাদ ও মোকাবেলায় ৮ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন পরিষদের আহবায়ক ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ৩১ জানুয়ারি প্রেসক্লাবের সামনে অন্যান্য সংগঠনের কর্মসূচীতে একাত্মতা প্রকাশ ও প্রতীকী বিক্ষোভ সমাবেশ; ৩ ফেব্রুয়ারি সব জেলা শহরের শহীদ মিনারে শ্রমিক-কর্মচারীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের বিক্ষোভ সমাবেশ; ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিট থেকে ১টা পর্যন্ত সকল অফিসের মালিক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ; একই সময়ের মধ্যে গাড়ি, রেল, লঞ্চ-স্টিমারসহ সকল যানবাহনে টানা দুই মিনিট হর্ন বাজিয়ে প্রতিবাদ; সব দোকানদারকে নিজ নিজ দোকানের সামনে পাঁচ মিনিট দাঁড়িয়ে বাঁশি বাজিয়ে প্রতিবাদ; কৃষকদের নিজ কর্মক্ষেত্রে ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ; ৭ ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকায় শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল শ্রেণি পেশার নারী, ছাত্র ও যুব সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় কনভেনশন। ঐ কনভেনশন থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ডের চেয়ারম্যান লে. জে. (অব.) হেলাল মোর্শেদ বলেন, দেশে আগুন নয়, শান্তি চেয়েছিলাম। স্বাধীনতা যুদ্ধের পরাজিত শক্তির উল্লাস নয়, মেহনতি মানুষের হাসি দেখতে চেয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে চলছে। কিন্তু সেই অগ্রযাত্রায় জঙ্গী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বাধা সৃষ্টি করছে। চলমান সহিংসতার বিরুদ্ধে দেশের সকল স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। নাশকতাকারীদের মোকাবেলা করতে হবে।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নারী নেত্রী  শিরিন আখতার বলেন, জ্বালাও-পোড়াওকারীদের সাথে আর আপোষ নয়। তাদের প্রতিহত করার সংগ্রাম চলছে, চলবে।
এ সময় বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ডের ভাইস চেয়ারম্যান ইসমত কাদির গামা, চলচ্চিত্রকার কাজি হায়াত্, জাতীয় নারী জোটের নেত্রী আফরোজা হক রীনা, মহসিন আলী প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, উপ প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রমুখ।