‘গরিবের গায়ে কেন অবরোধের আগুন?’

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০১৫, ২৩:৫৫

আগুনে ঝলসে গেছে মোহাম্মদ খোকনের শরীরের বিভিন্ন অংশ। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে কাতরাচ্ছেন দুঃসহ যন্ত্রণায়। পাশে বসে আছেন স্ত্রী রতনা। চোখে-মুখে চরম অসহায়ত্বের ছাপ। স্বামীর এমন করুণ পরিণতিতে যেন বাকহারা তিনি। সঙ্গে এক বছরের মেয়ে অনিশা।

গত ২৪ জানুয়ারি রাজধানীর ডেমরার কাঠের পুলের মোল্লা ব্রিজের কাছে বাসে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে যে ২৭ জন দগ্ধ হয়েছিলেন খোকন তাদের একজন। সেদিনই তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
খোকনের দুই হাত ও মুখের এক পাশ পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার শ্বাসনালীও। শ্বাস নিচ্ছেন হাঁপিয়ে হাঁপিয়ে। চিকিত্সকরা বলেছেন, অবস্থা খুব একটা ভালো না। ছোট্ট অবুঝ শিশু অনিশা মা রতনাকে জড়িয়ে ধরে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে আছে বাবার দিকে। অনিশা আগুন চেনে না, অবরোধের আগুনের ভয়াবহতাও বুঝে না!
কিছুক্ষণ বাবার দিকে তাকিয়ে থেকে কি মনে করে যেন চিত্কার দিয়ে উঠল অনিশা। হয়তো বাবাকে চিনতেই পারেনি সে। অথবা পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া মুখটা দেখে ভয় পেয়েছে এই শিশু সন্তান।
খোকনের বাড়ি রূপগঞ্জের গোলাকান্দাইল দক্ষিণপাড়ায়। সেখানেই পরিবারের সঙ্গে থাকা হয় তার। গুলিস্তানের ফুটপাতে জুতা বিক্রি করতেন। প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে গুলিস্তান এসে রাতে আবার ফিরে যেতেন। ঘটনার দিনও কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন খোকন। তখনই অবরোধের আগুনে অন্যদের সঙ্গে দগ্ধ হন তিনি। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি খোকনের এমন পরিণতিতে চোখে অন্ধকার দেখছে তার পরিবার।
একদিকে শরীর পোড়ার দুঃসহ যন্ত্রণা, অন্যদিকে পরিবারের জন্য দুশ্চিন্তা। এ প্রতিবেদককে ক্ষীণ স্বরে বললেন, ‘আমরা নিরীহ মানুষ। কোন দলের কর্মী না। তবে কেন আমাদের পোড়ানো হচ্ছে?’
খোকনের স্ত্রী রতনা বলেন, ‘আমার স্বামী আজ আমার শিশু সন্তানকে দেখে মা বলে ডাক দিছে। তবে মেয়ে তারা বাবাকে চিনতে পারে নাই। আল্লাহ কেন আমাদের এই বিপদে ফেলল। গরীবের গায়ে কেন অবরোধের আগুন?’

উল্লেখ্য, ২৩ জানুয়ারি রাতে গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসটি গুলিস্তান থেকে ছেড়ে রূপগঞ্জের গাউছিয়ায় যাচ্ছিল। ডেমরার কোনাপাড়া এলাকায় পৌঁছামাত্র কয়েকজন যুবক বাসের সামনে এসে দাঁড়ায়। চালক বাসটি থামান। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই যুবকরা বাসটি লক্ষ্য করে পেট্রোলবোমা ছুঁড়ে মারে। বাসের যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে নামতে থাকেন। এরই মধ্যে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। দগ্ধ হন মোহাম্মদ খোকনসহ ২৭ জন।