পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, ‘আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। কিন্তু স্বাধীনতাকে অর্থবহ করার জন্য আমরা তেমন আত্মত্যাগ করতে পারিনি।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিপুল সম্ভাবনার দেশ। পরিকল্পনামাফিক কাজ করলে অবশ্যই আমরা স্বাধীনতার সুফল অর্জন করতে পারব। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত আমাদের যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, কঠোর পরিশ্রম করলে বাংলাদেশ আরো এগিয়ে যাবে।’ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে বাংলাদেশ ভূগোল পরিষদ আয়োজিত এক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘অনেকে মনে করেন—সরকার যেভাবে চিন্তা করে সেভাবে কাজ কার যায়। কিন্তু এ ধারণা অনেক সময় ভুল। কারণ, যেসব দাতারা আমাদের অর্থ দেয় তাদের পরামর্শ অনুযায়ী অনেক সময় কাজ করতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘কিন্তু বাংলাদেশ যে বিপুল সম্ভাবনার দেশ সে কথাটি আমরা অনেকেই ভুলে যাই। এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য ভবিষ্যত্ প্রজন্মের সামনে আমাদের ইতিবাচক কথা বলতে হবে, যাতে তারা উদ্বুদ্ধ হয়।’
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, ‘অনেকে মনে করেন আমরা পরিকল্পনা ছাড়াই এগোচ্ছি কিন্তু এ কথা ঠিক নয়। পরিকল্পনা করার জন্য আমাদের পরিকল্পনা কমিশন রয়েছে। পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা রয়েছে। তা বাস্তবায়ন হয়তো ঠিকমতো হয় না। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা আমরা ঠিকমতো বাস্তবায়ন করতে পারিনি। জাতীয় বাজেটের ওপরও আলোচনা করতে গিয়ে আমরা বুঝে উঠতে পারি না, কোনো বাজেটের ওপর আলোচনা করব। কারণ প্রথমে একবার বাজেট দেয়া হয়, অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে তা আবার সংশোধন করা হয়। অর্থবছরের শেষে এসে তা আবার বদলে যায়।’
শহরে জনসংখ্যার ঘনত্ব নিয়ে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘শহরে এবং গ্রামে জনসংখ্যা বাড়াতো না যদি না সব সিদ্ধান্তের জন্য জনগণকে ঢাকায় আসতে না হতো। এ জন্য অনেকে প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ কথা বলেন। কিন্তু এরো নানা সমালোচনা আছে।’
বাংলাদেশের ভূমিব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, ‘জমির ব্যবহার কী ভাবে হবে, তা উপজেলা করার সময় ব্যাখ্যা করা ছিল। কিন্তু আমাদের দেশে পরিকল্পনা খুব বেশি আগায়নি।’
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে আরেকটি বাংলাদেশ জেগে উঠছে। সেখানে আমরা ফেব্রুয়ারি মাস থেকে গাছ লাগানো শুরু করছি। এ জন্য বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন নেই। তবে কোন জমি কী কাজে ব্যবহার করা হবে—সে জন্য অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘অনেকে বস্তি উচ্ছেদের কথা বলেন। কিন্তু বস্তিতে যারা বসবাস করেন তারা না থকলে মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্তদের অনেকের অসুবিধা হয়ে যায়। এ জন্য বস্তি উচ্ছেদের আগে বস্তিবাসীর পুনর্বাসন দরকার।’
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, ‘আমাদের দেশে অনেকেই যানজটের সমালোচনা করেন। কিন্তু এটি একটি গর্ব করার মতো বিষয়। স্বাধীনতার আগে আমাদের কয়জনের গাড়ি ছিল? এখন গাড়িসংখ্যা কতো হয়েছে? এটি স্বাধীনতার ফসল।’
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে আশাবাদী হওয়ার’ কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশ বিপুল সম্ভাবনার দেশ। শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা এ দেশকে এগিয়ে নিতে পারি।’
বাংলাদেশ ভূগোল পরিষদের সভাপতি ড. মো. আব্দুর রবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নগর গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
বাংলাদেশ ভূগোল পরিষদ অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যাঞ্চেলর ড. নাসরিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. শহীদ আখতার হোসেন, ডিন ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
