এক পেট্রোল বোমায় শেষ আবুলের পরিবারের স্বপ্ন

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০০:৫৯

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন। এখানেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। পেটের দায়ে এলাকা ছেড়েছেন বছর কয়েক হয়েছে। এখন রুপগঞ্জের তারাবোতে থাকেন। কাজ করতেন একটি সোয়েটার ফ্যাক্টরিতে। থাকেন ভাড়া বাসায়। সঙ্গে থাকেন বাবা এবং মা। আছে স্ত্রী আর সাত বছরের এক ছেলে। অনেক আশা নিয়ে ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। টানাটানির সংসার হলেও বেশ সুখেই ছিলেন। অভাব তাদের সুখের ঘরে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। কিন্তু অবরোধের পেট্রোল বোমায় শেষ হয়ে গেল তার সংসারের সব সুখ।

এখন সেই সংসারে শুধু কান্নার রোল। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিত্সাধীন আছেন আবুল। রাজধানীর ডেমরার কাঠের পুলের মোল্লা ব্রিজের কাছে বাসে দুর্বৃত্তদের পেট্রোল বোমায় দগ্ধ হয়েছেন তিনি। চিকিত্সকরা বলছেন, আবুলের শরীরের ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন।
২৩ জানুয়ারি সকালে বাসা থেকে বের হন আবুল হোসেন। উদ্দেশ ছিল ছোট ভাইয়ের বাসায় যাওয়া। ছোট ভাই মনির থাকেন রাজধানীর কাঠালবাগানে। যথারীতি ছোট ভাইয়ের বাসায় এলেন, দেখাও হলো। সারাদিন ছিলেন ভাইয়ের সঙ্গে। ফেরার জন্য বাসে উঠে রূপগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দিলেন। ডেমরার কাঠের পুলের কাছাকাছি আসতেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত বাস লক্ষ্য করে ছুড়ে মারে পেট্রোল বোমা। বোমাটি আবুলের কাছাকাছি এসে পড়ে। মুহূর্তেই আগুন ধরে যায় গায়ে। আগুনে তার দুই হাত এবং মুখমণ্ডলের কিছু অংশ ঝলসে যায়। পরে অন্যদের সঙ্গে লোকজন তাকেও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসেন। এখন দুঃসহ যন্ত্রণায় কাটছে তার প্রতিটি মুহূর্ত।
আবুলের বাবা জব্বার খলিফা বলেন, আমার সাত বছরের একটা নাতি আছে। এখন তাদের পড়ালেখার খরচ, সংসার খরচ কিভাবে চলবে বুঝতে পারছি না। আবুলই আমাদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার চিকিত্সার পেছনেই অনেক টাকা খরচ হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২৩ জানুয়ারি রাতে গ্লোরি পরিবহনের যাত্রীবাহী ওই বাসটি গুলিস্তান থেকে ছেড়ে রূপগঞ্জের গাউছিয়ায় যাচ্ছিল। ডেমরার কোনাপাড়া এলাকায় আসামাত্র কয়েকজন যুবক বাসের সামনে এসে দাঁড়ায়। চালক বাসটি থামান। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা বাসটি লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারে। বাসের যাত্রীরা হুড়োহুড়ি করে নামতে থাকেন। এরই মধ্যে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। দগ্ধ হন আবুল হোসেনসহ ২৬ জন।