বেস্টওয়ে কো-অপারেটিভ কমার্শিয়াল ক্রেডিট লিমিটেডের (বিসিসিসিএল) চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে এ অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই মধ্যে অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামকে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও উপপরিচালক মো. বেনজীর আহমেদকে তদারককারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বেস্টওয়ের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের বিনিয়োগকৃত দুই কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
দুদক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ডা. ফওজিয়া খান ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে বিসিসিসিএলে মাসিক মুনাফা-ভিত্তিক সঞ্চয়ী হিসেবে মোট দুই কোটি ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেন। কিন্তু নিয়মিত মুনাফা না পাওয়ায় তিনি ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে সম্পূর্ণ টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের চার মাস অপেক্ষার পর টাকা না ফেরত পেয়ে ওই গ্রাহক ২০১৩ সালে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হন। এরপর প্রায় ৪০ লাখ টাকা মুনাফা বিসর্জন দিয়ে আমানতকৃত সম্পূর্ণ টাকা সঞ্চয়ী হিসাবে স্থানান্তর করেন এবং দ্রুত আমানত ফেরতের জন্য বিসিসিসিএলের কাছে আবেদন করেন। গত ২০১৩ সালের ১৮ জুলাই সম্পূর্ণ টাকা ফেরত না পেয়ে ওই গ্রাহক ও বিসিসিসিএল কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সমোঝতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সেখানে ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কোনো প্রকার মুনাফা ছাড়া ওই গ্রাহকের পাওনা আসল টাকা সম্পূর্ণ বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বিসিসিসিএল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওই অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। এতে অবশিষ্ট টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে মুনাফা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়ে ২০১৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত সময় বৃদ্ধি করা হয়। এর পরও অর্থ ফেরত না দেয়ায় পরবর্তী আরো তিন মাস সময় বৃদ্ধি করা হয়। এভাবে তিন বছর সময় পার হলেও বিসিসিসিএল কর্তৃপক্ষ ওই গ্রাহকের অর্থ ফেরত দেয়নি।
