ফের পেছাল এসএসসি উত্কণ্ঠায় পরীক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০০:০৩

হরতালের কারণে ফের পেছাল এসএসসি পরীক্ষা। পরীক্ষার দিন হরতাল থাকলে আবারও পেছানো হবে পরীক্ষা। এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন দেশের ১৪ লাখ ৭৯ হাজার পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। অভিভাবকদের শঙ্কা, পরীক্ষায় এই অনিশ্চয়তা শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

দুই ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। বিএনপি ও শরিক দলের ৭২ ঘণ্টার হরতাল প্রত্যাহার না হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা পিছিয়ে ছয় ফেব্রুয়ারি শুক্রবার নিয়ে যাওয়া হয়। তখন জানানো হয়, চার ফেব্রুয়ারির পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা হবে। কিন্তু পরে ৩৬ ঘণ্টার হরতাল ডাকায় চার ফেব্রুয়ারির পরীক্ষা পিছিয়ে সাত ফেব্রুয়ারি নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিভাবকরা বলছেন, এভাবে বারবার পরীক্ষা পিছিয়ে দেয়ায় শিক্ষার্থীরা  হয়তো সহিংসতার শঙ্কা থেকে বেঁচে গেল। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার ভবিষ্যত্ কী? যদি টানা হরতাল চলতে তাকে তাহলে কী হবে? কেন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হবে পরীক্ষার্থীদের? এই অনিশ্চয়তায় তাদের যে ক্ষতি হবে তা কীভাবে পূরণ হবে!
গতকাল ঢাকার এক অভিভাবক শফিকুর রহমান টেলিফোনে এই প্রতিনিধিকে বলেন, আমরা হরতাল ডাকা এবং পরীক্ষা পেছানোর মধ্যে থাকতে চাই না। যদি নতুন হরতাল না দেয়া হয়, তাহলেও পরীক্ষা পেছানোর ফলে ছয়, সাত এবং আট ফেব্রুয়ারি টানা পরীক্ষা দিতে হবে। এভাবে পরীক্ষা দিতে গেলে প্রস্তুতি নিতে সমস্যা হয়। বলা বাহুল্য এটা পরীক্ষার ফলে প্রভাব ফেলতে পারে। এই সহিংস রাজনীতির দায় কেন শিক্ষার্থীদের নিতে হবে। আলমগীর নামে এক অভিভাবক বলেন, আমরা সুস্থ রাজনীতি চাই। যাতে ভবিষ্যত্ প্রজন্মের গায়ে সহিংসতা, বিরূপ পরিস্থিতির দাগ না লাগে।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে পরীক্ষায় মন নেই পরীক্ষার্থীদের। সব সময়ই সংবাদে তাদের মন। প্রতিমুহূর্তে তাকিয়ে থাকছে টিভি সেটের দিকে। আবারো হরতাল দেয়া হলো কি না, হরতাল ডাকলে পরীক্ষা পেছানো হলো কি না, এসব নিয়েই শিক্ষার্থীরা ব্যস্ত থাকছে।
আমিরুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক বলেন, সন্তানের পড়ায় মন বসছে না। প্রতিমুহূর্তে আমার কাছে জানতে চায়, হরতাল হলো কি না, পরীক্ষা হবে কি না। এখন কোন্ বিষয়ের প্রস্তুতি নেবে তা হরতাল দেখেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
পরীক্ষার্থী জিনিয়া আক্তার বলেন, পড়াশোনায় মন বসাতে পারছি না। রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমাদের লেখাপড়ায় সমস্যা সৃষ্টি করছে। আমরা পরীক্ষার্থীরা ভালো নেই।
শিক্ষক নেতা নজরুল ইসলাম রনি বলেন, এভাবে চলতে পারে না। এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কায় আছি, অনিশ্চয়তায় আছে শিক্ষার্থীরা। সরকার ও বিএনপির মধ্যে সমঝোতা হলে পরীক্ষার্থীরা এই অনিশ্চয়তা থেকে রক্ষা পাবে।
রাজধানীর একটি স্কুলের শিক্ষক জানান, ১৫ লাখ শিক্ষার্থীকে নিয়ে রাজনীতি চলছে। পরীক্ষার্থীদের জিম্মি করা কারো জন্যই ঠিক হবে না। পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সবারই ভূমিকা থাকা উচিত। অন্তত শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে কারো না কারো ছাড় দিতে হবে।
আজকের পরীক্ষা শনিবার
হরতালের সময় বৃদ্ধির কারণে আজ চার ফেব্রুয়ারির এসএসসি পরীক্ষা পেছানো হয়েছে। এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে সাত ফেব্রুয়ারি শনিবার ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ পরীক্ষা পরিবর্তনের কথা জানান।
এসএসসিতে আজ বাংলা (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র, সহজ বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র, দাখিলে হাদিস শরীফ এবং কারিগরিতে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।
গত সোমবার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ২০ দলীয় জোটের হরতালের কারণে তা পেছানো হয়। পরিবর্তিত সময়সূচি অনুযায়ী, সোমবারের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ছয় ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। ওই দিন বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র, সহজ বাংলা প্রথম পত্র এবং বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রথম পত্র; দাখিলে কুরআন মাজিদ ও তাজবীদ এবং এসএসসি ভোকেশনালে বাংলা-২ (১৯২১) সৃজনশীল এবং বাংলা-২ (৮১২১) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আবেদন জানিয়েছিলাম অন্তত পরীক্ষার দিনগুলোতে হরতাল না দেয়ার জন্য। কিন্তু তারা (বিএনপি জোট) সাড়া দেননি। এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

সম্মেলনে শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবু বক্কর ছিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।