চার বন্ধুর স্ট্রবেরি ক্ষেত

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০০:৫২

শিবগঞ্জে স্ট্রবেরি ফলের আবাদ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন চার বন্ধু। মাত্র ৫ কাঠা জমি নিয়ে শুরু করে পাঁচ বছরের মাথায় তারা এখন প্রায় ১৬ বিঘা জমিতে বিদেশি এই ফলের চাষ করছেন। এবার উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার কেজি। যার মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ টাকা মুনাফা হবে বলে আশা করা হচ্ছে ।

গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ক্ষেতে দাঁড়িয়ে কথা হয় চার স্ট্রবেরি চাষির একজন বিনোদপুর ডিগ্রী কলেজের রসায়নের প্রদর্শক মোহা. সফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, বিনোদপুর আলিয়া মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মোহা. ইকবাল হোসেনসহ আমরা চার বন্ধু ১০ বছরের জন্য ১৬ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে স্ট্রবেরি আবাদ করেছি।চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি হতে ফল উঠতে শুরু করেছে এবং এ পর্যন্ত ১ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছি। জমিতেই দর পাচ্ছি কেজি প্রতি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা। তবে হরতাল ও অবরোধ না থাকলে দর আরো বেশি পাওয়া যেত। তিনি জানান, চারা রোপণ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ লাখ টাকা, আরো প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হবে। খরচ বাদ দিয়েও মুনাফা থাকবে প্রায় ২৫ লাখ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, একটি বেসরকারি চ্যানেলের কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিদ্যার অধ্যাপক ড. মোহা. মঞ্জুর হোসেনের পরামর্শে ২০০৯ সালের নভেম্বরে প্রথমে পরীক্ষামূলক ভাবে মাত্র ৫ কাঠা জমিতে তারা স্ট্রবেরি আবাদ শুরু করেন। সেবার সামান্য কিছু লাভ হয়। ২০১০ সালের নভেম্বরে প্রায় ৪ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করে খরচ বাদে লাভ হয়েছিল প্রায় লাখ টাকা। তবে পরের বছর লোকসান হয়। কিন্তু তারা হাল ছাড়েননি। প্রতি বছরই চাষ করে গেছেন এবং লাভের মুখ দেখেছেন। চলতি বছর ফল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা। তবে তাদের মধ্যে কিছুটা হতাশা কাজ করছে চলমান অবরোধ-হরতাল নিয়ে। কারণ রাস্তা-ঘাটে নিরাপত্তা না থাকলে ক্রেতারা ঠিকমত আসতে পারবেন না । 
সফিকুল জানান, প্রথমে আমরা ৪ জন যৌথভাবে এনজিও থেকে লোন নিয়ে কাজ শুরু করি। তখন থেকেই লাভের টাকা নিজেরা ভোগ না করে শুধু বিনিয়োগ করছি। তিনি আরো জানান, বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, জুস ও কসমেটিকস তৈরির অন্যতম উপকরণ স্ট্রবেরি। বেলে দোঁআশ মাটি ফলটি আবাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তবে কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ আমাদের ঠিকমত সহায়তা করলে আরো বেশি মুনাফা অর্জন করতে পারতাম।

অবশ্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল ফারুক বলেন, বর্তমানে উপজেলার দুই ইউনিয়নে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি আবাদ হচ্ছে। কৃষি বিভাগের লোকজন যথারীতি সরাসরি জমিতে গিয়ে ক্ষেত দেখাশুনা করছে।