যশোরের মনিরামপুরে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করতে গিয়ে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে দুই যুবক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে যশোর-মনিরামপুর সড়কের মনিরামপুরের কুয়াদা এলাকার ব্যাগারিতলায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ইউসুফ আলী (২৭) ও লিটন হোসেন (২৮)।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কাঁচামাল (তরকারি) ব্যবসায়ী ইউসুফ ও লিটনকে পুলিশ পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার পর ট্রাক চাপা দিয়েছে। তারা দুজন মনিরামপুর বাজারের কাঁচামাল আড়ত ‘কেশবপুর ভাণ্ডার’-এ ব্যবসা করতেন। ইউসুফ মনিরামপুর উপজেলার তাহেরপুর গ্রামের আবদুল আজিজের ছেলে। লিটন দুর্গাপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে।
নিহত ইউসুফ আলীর ভাই তাজাম্মুল হোসেন অভিযোগ করেন, ‘পুলিশই ওগের মাইরে ফেইলেছে। লাশ দেখলিতো বুঝা যাচ্ছে কুপিয়ে মাইরেছে। এক্সিডেন্ট করলি ছুইলে যাবে, গোশ কাইটে যাবে। প্রথম মেইরেছে, ভিম মার দিয়েছে। মাথায় টাতায় গড়ান মাইর দিয়েছে। মারার পর হয়তো মোটর সাইকেল ডইলে (চাপা) দিয়েছে।’
ইউসুফের চাচাতো ভাই মাহবুব জানান, সোমবার রাতে পুলিশ ওদের দুজনকে আটক করে। এখন দেখছি তারা লাশ। এখন আপনারা বুঝে নেন কি হয়েছে।
তবে মনিরামপুর থানার ওসি মোল্লা খবির আহম্মেদ জানান, সোমবার রাতে মনিরামপুর সড়কে দুর্বৃত্তরা পিকআপে অগ্নিসংযোগ করে। অগ্নিসংযোগকারীদের ধরার জন্য পুলিশ তত্পর ছিল। পরে তারা জানতে পারেন, রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে ব্যাগারিতলা এলাকায় দুজন পিকেটার মোটর সাইকেলে করে ট্রাকে পেট্রোল বোমা মারার উদ্যোগ নিয়েছে। চালক বিষয়টি বুঝতে পেরে ওদের চাপা দিয়েছে। ঘটনাস্থলে দুটি পেট্রোল বোমা পাওয়া গেছে। এসময় দুর্ঘটনাকবলিত একটি মোটর সাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে।’
পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ প্রসঙ্গে মনিরামপুর থানার ওসি মোল্লা খবির আহম্মেদ জানান, এমন অভিযোগ সত্য নয়। আমি এমন শুনিনি।’ আর যশোরের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) রেশমা শারমিন জানিয়েছেন, এ ধরনের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।
অপরদিকে, ভোর ৪টার দিকে যশোর-মাগুরা মহাসড়কের ভাটার আমতলা এলাকায় পেট্রোল বোমা নিক্ষেপকালে গণপিটুনির শিকার হয়েছে এক বিএনপি কর্মী। গণপিটুনির শিকার শাহীনের (৩০) বাড়ি বাঘারপাড়া এলাকায়। আহত অবস্থায় তাকে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
