কুমিল্লায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সঙ্গে নাশকতাকারীদের পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয় পুলিশ আহত হয়েছেন। বুধবার ভোর রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষ্ণপুর নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ অস্ত্র-গুলি ও পেট্রোল বোমাসহ শিবিরের চার নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। আহত পুলিশ সদস্যদের কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার দুপুরে পুলিশ বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অস্ত্র, বিস্ফোরক আইনসহ পুলিশ আহত করার অভিযোগে পৃথক তিনটি মামলা করেছে।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বুধবার ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষ্ণপুর নামক স্থানে ১০-১৫ জন নাশকতাকারী ডিবি পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এ সময় পুলিশ গাড়ি থেকে নামামাত্র নাশকতাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। এতে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে ১৭ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে। পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণের একপর্যায়ে ডিবি’র তিন এসআইসহ ছয় সদস্য আহত হন। তারা হলেন, ডিবি’র এসআই মো. আদিল মাহমুদ, এসআই মো. শাহ কামাল আকন্দ, এসআই মো. সহিদুল ইসলাম, এএসআই মো. নজরুল ইসলাম, কনস্টেবল শ্যামল চক্রবর্তী ও বাহারুল ইসলাম। এ ঘটনায় চার নাশকতাকারীকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার হেসাখাল গ্রামের বোরহান উদ্দিন (২৫), চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মাদারপুস্কুরনী গ্রামের মো. আবদুল আলী (২২), একই উপজেলার নালঘর গ্রামের আবু ইউসুফ (২৫) ও মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পশ্চিমঘোড়াবই গ্রামের আবু ছুফিয়ান (২০)।
এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিবি’র ওসি একেএম মনজুর আলম জানান, আটককৃতদের কাছ থেকে দুইটি রিভলবার, দুই রাউন্ড গুলি ও ছয়টি পেট্রোল বোমা উদ্ধার হয়েছে। তারা জিজ্ঞাসাবাদে নিজেদেরকে শিবিরের কর্মী বলে পরিচয় দেন। ২০ দলীয় জোটের নেতাদের নির্দেশে ঘটনাস্থলে তারা গাড়িতে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
