উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে দেশে কোনো ধরনের অসাংবিধানিক শক্তির ক্ষমতায় আসার কিংবা জরুরি অবস্থা জারির সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘জরুরি অবস্থা দেয়ার মতো অবস্থা কেউ এখনও সৃষ্টি করতে পারেনি। এটা কখনও হবে না। আসংবিধানিক পন্থায় দেশ ছেড়ে দেব না। কেউ এই চেষ্টা করলে জনগণই তা রুখে দেবে।’
বুধবার জাতীয় সংসদে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তরপর্বে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে নিজের সরকারের এই স্পষ্ট অবস্থানের কথা দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, ‘অলৌকিক স্বপ্ন দেখে দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া, শরীরে রক্ত থাকতে তা হতে দেবো না।’
একই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের ৭(খ) অনুচ্ছেদে কেউ অসাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের চেষ্টা করলে সেটি হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধে ক্যাপিটাল পানিসমেন্টের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে সংবিধানে।’ তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে দেশে যখন জরুরি অবস্থা আসে, তখন ইয়াজউদ্দিন আহমেদ নিজে একসঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও সরকার প্রধান ছিলেন। যার কারণে একক সিদ্ধান্তে জরুরি অবস্থা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন আমি প্রধানমন্ত্রী আছি, এখন রাষ্ট্রপতিকে জরুরি অবস্থা দিতে হলে আমার (প্রধানমন্ত্রীর) লিখিত নিতে হবে।’
এই প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘অনেকে এখন বলাবলি করছেন— একজন আরেকজনকে ফোন করে বলেন ‘এই বুঝি জরুরি অবস্থা এসে গেল’। কিন্তু জরুরি অবস্থা লাগবে কেন? জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করবো। তিনি বলেন, ’৭৬ থেকে ’৮২ সাল পর্যন্ত বিএনপির কারণেই দেশে মার্শাল ল এসেছিল। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্তও বিএনপির দুঃশাসন ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের কারণেই ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা এসেছিল।’
