জঙ্গি অর্থ বন্ধে ব্যাংক লেনদেন মনিটরিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ২০:১২



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গি ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে অর্থ যোগানদাতাদের চিহ্নিত এবং জঙ্গী অর্থায়ন বন্ধে ব্যাংকে লেনদেন কঠোরভাবে মনিটর করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসী ও জঙ্গী তৎপরতায় পৃষ্ঠপোষকরা দেশে ও দেশের বাইরে অর্থ স্থানান্তরে এখনো ব্যাংকগুলোকে ব্যবহার করছে। এজন্য ব্যাংকের লেনদেন নিবিড়ভাবে মনিটর করা উচিত এবং সন্ত্রাসে অর্থায়নকারীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়গুলোর কাজে গতিশীলতা আনতে তাঁর প্রত্যেক মন্ত্রণালয় পরিদর্শন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আজ অর্থ মন্ত্রণালয়ে আসেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বক্তৃতা করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ ও এর অধীনস্থ বিভিন্ন বিভাগে ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল জনরোষ এসব দলের অশুভ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করতে পারে।
তিনি বলেন, নিরাপরাধ মানুষ ও দেশের অর্থনীতি লক্ষ্য করে বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সম্পর্ক জনগণ সজাগ রয়েছে। জনগণ এ নৈরাজ্য প্রতিরোধ করতে শুরু করেছে। কেবল জনরোষেই বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য প্রতিহত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার রয়েছে। কারণ আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর ও মর্যাদাশীল হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব। আমরা এ কথা মনে রেখে দেশ পরিচালনা করি।
তিনি বলেন, জনগণ বিএনপি-জামায়াতের সংঘটিত হামলায় উদ্বিগ্ন। তারা রাজনীতির নামে হত্যা, পেট্রোল বোমা হামলা ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকরসহ সব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তারা ইসলামের নামে রাজনীতি করছে। কিন্তু তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা ইসলাম কখনো সমর্থন করে না।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের জন্য বিএনপির কোন সহানুভূতি নেই। কারণ এদেশ সৃষ্টিতে দলটির কোনো আত্মত্যাগ নেই। অন্যের ত্যাগের বিনিময়ে তারা এদেশ পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী পরবর্তী চার বছরের মধ্যে দেশের দারিদ্র্যের হার দশ ভাগে নামিয়ে আনতে তার সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে পারলে একটি দরিদ্র দেশ হিসেবে আর কেউ বাংলাদেশকে অবজ্ঞা করতে পারবে না। তিনি বলেন, সমাজ থেকে দরিদ্র নির্মূল করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে।। ৫ কোটি মানুষ তাদের অবস্থান নিম্ন আয় থেকে মধ্যম আয়ে নিয়ে গেছেন। সার্বিক দারিদ্র্য হার কমে ২৪ ভাগ হয়েছে। অতি দরিদ্রের হার ১০ ভাগ হয়েছে। খবর বাসস।