ছুটির দিনে সকাল থেকেই মেলার দুয়ার খোলা

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০২:৩৯

শীতের মিষ্টি রোদে বইপ্রেমীদের উচ্ছ্বাসে বইমেলা ছিলো প্রাণবন্ত। টিএসসি চত্বরের চারদিকে রিকশা ও গাড়ির জট ঠেলে পুলিশ ব্যারিকেড পেরিয়ে বইমেলার পথে একবার পা রাখলেই মনটা ভালো হয়ে যায়। বইয়ের দোকানগুলো হাতছানি দেয়। নতুন নতুন লেখার সঙ্গে পরিচিত হবার জন্য ঝকঝকে মলাটগুলো আমন্ত্রণ নিয়ে উন্মুখ হয়ে বসে আছে যেন। বইমেলা যেন প্রতিটি বাঙালির মনে এক সম্মোহনী সুর বাজিয়ে যায়। এর টানে সারাদেশের বইপ্রেমী মানুষরা একবারের জন্য হলেও পা ফেলেন মেলা প্রাঙ্গণে।

গতকাল হরতালের রেশ ছিল না বইমেলায়। কখনোই থাকে না। পাঠকরা এসে ভরিয়ে তুলেছিলেন মেলা। মেলায় এসেছিলেন ষাটোর্ধ্ব মমিনুল হক সরকার। পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি বললেন, ফেব্রুয়ারিতে বইমেলায় আসার জন্য এক তীব্র টান অনুভব করি। প্রতিদিন এসে তো আর বই কিনি না। কিন্তু প্রতিদিন না এসে থাকতে পারি না। বইমেলায় আসা যেন তীর্থ ভ্রমণে আসা।
আজ শুক্রবার। সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তাই বইমেলার দ্বার খুলে যাবে সকাল ১১টায়। একটানা চলবে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত।
আজ শুক্র ও আগামীকাল শনিবার শিশুপ্রহর ঘোষণা করেছে গ্রন্থমেলা কর্তৃপক্ষ। বেলা ২টা পর্যন্ত অভিভাবকদের সঙ্গে করে শিশুরা নিজেদের মতো করে মেলায় ঘুরে ফিরে স্বাচ্ছন্দ্যে বই কিনতে পারে সেজন্য ঘোষণা করা হয়েছে শিশুপ্রহর। এবারের মেলায় মোট চারদিনকে শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়েছে। অন্য দুই দিন আগামী ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি।
গতকাল বিকালে মেলায় এসেছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এবার মেলায় তার দুইটি বই বের হয়েছে সময় প্রকাশন থেকে। তিনি ওই স্টলে বসেছিলেন কিছুক্ষণ। পাঠকদের অটোগ্রাফ দিয়েছেন তিনি।
নজরুল মঞ্চের চিত্র :গতকাল নজরুল মঞ্চে ৪টি নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইগুলো হলো— সাফায়েত ঢালীর ‘একাত্তরের শিশু’ ও ‘স্বাধীনতা জ্বলছে’, শেখ ডেভিডের ‘কষ্টের নোঙর কোথায়?’ ও শাহানা পারভীনের ‘মেঘ বন্দী’।
নতুন বই :একাডেমির তথ্যকেন্দ্র এবং সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার মেলার পঞ্চম দিনে নতুন ১৪০টি বই এসেছে। এর মধ্যে গল্প ১৫, উপন্যাস ৩০, প্রবন্ধ ১১, কবিতা ২৮, গবেষণা ৭, ছড়া ৯, শিশুসাহিত্য ৭, জীবনী ৭, মুক্তিযুদ্ধ ৬, নাটক ১, বিজ্ঞান ৬, ভ্রমণ ৪, ইতিহাস ৪, ধর্মীয় ৩, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ২ এবং অন্যান্য বিষয়ের উপর ১৪টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে— বুকস ফেয়ার থেকে অরণ্য পাশার ‘নেলসন ম্যান্ডেলা : জীবন ও কর্ম’, অনন্যা থেকে এসেছে আনিসুল হকের ‘যখন আমি ঘোটক ছিলাম’, শাহীন প্রকাশনী থেকে অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরীর ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে নিয়ে মিথ্যা ও মিথ্যাচার’, তাম্রলিপি থেকে ‘ধূপপুর জঙ্গলে এলিয়েন’, মিজান পাবলিশার্স থেকে অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান চৌধুরীর ‘নেতা  নেত্রী ও নেতৃত্ব’, আহমদ পাবলিশিং হাউজ থেকে সেলিনা হোসেনের ‘একাত্তরের ঢাকা’, কাকলী প্রকাশনী থেকে আনিসুল হকের ‘মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ উপন্যাস’, চারুলিপি থেকে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদের ‘শিক্ষা: লক্ষ্য অর্জনে যেতে হবে বহুদূর’, আগামী প্রকাশনী থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘বাংলাদেশের স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’, অন্যপ্রকাশ থেকে পিয়াস মজিদের ‘কুয়াশা ক্যাফে’ ও আহমদ রফিকের ‘রবীন্দ্রনাথ, গীতাঞ্জলি ও নোবেল পুরস্কার’, জলরঙ থেকে মোহাম্মদ মামুনুর রশীদের ‘ধীর সুর বিলম্বিত ব্যথা’ উল্লেখযোগ্য।
মেলামঞ্চের আয়োজন
বৃহস্পতিবার মেলামঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়’ শীর্ষক আলোচনা সভা। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক গোলাম মুস্তাফা। মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুমের সভাপতিত্বে আলোচনা করেন অধ্যাপক মনসুর মুসা ও হাসান আরিফ। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন রেবেতা সুলতানা, মাহমুদ্দুজ্জামান বাবু, হায়দার হোসেন, সন্দীপন, বদরুন্নেছা ডালিয়া, শ্যামল সরকার এবং ফারহানা শিরীন।
আজকের অনুষ্ঠান

শুক্রবার মেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘রজনীকান্ত সার্ধশত জন্মবর্ষ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ পাঠ করবেন নূরুল আনোয়ার। সভাপতিত্ব করবেন জামিল চৌধুরী। আলোচনা করবেন দীপা বন্দ্যোপাধ্যায়, শিখা আরেফিন ও লুভা নাহিদ চৌধুরী। সকাল সাড়ে আটটায় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা উদ্বোধন করবেন করবেন শিল্পী হাশেম খান।