রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠ কাটাখালিতে পুলিশের গাড়িতে ককটেল ছুড়ে পালাতে গিয়ে গুলিতে মোহাম্মাদ শাহাবুদ্দীন নামে এক শিবির নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো দুইজন শিবির কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। শাহাবুদ্দীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপ সায়েন্স বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ও নাটোর সদরের ছাতনী এলাকার রফিকুল্যাহর ছেলে। এদিকে দলীয় নেতা শাহাবুদ্দীন আহমেদ নিহত হওয়ার ঘটনায় রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় রবিবার সকাল ছয়টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে জেলা শিবির।
আহত বাকি দুইজন হলেন- বিনোদপুর মেস শাখা শিবিরের সভাপতি মফিজুর রহমান ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হবিবুর রহমান হল শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান। তাদের পুলিশ হেফাজতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মফিজুল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবী বিভাগের মাস্টার্সের এবং হাবিবুর ফলিত গণিত বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
নগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন জানান, রাতে পুলিশের একটি গাড়ি রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের শামসাদীপুর এলাকায় টহল দিচ্ছিল। রাত একটার দিকে একদল শিবির ক্যাডার পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও শর্টগানের গুলি ছোড়ে। এসময় সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও গুলিবিদ্ধ তিন ছাত্রশিবিরের নেতা গুলিবিদ্ধ হয়। তাদের রামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিত্সক শাহাবুদ্দীনকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া দুইপায়ে গুলিবিদ্ধ মফিজুর ও ডান পায়ের গুলিবিদ্ধ হাবিবুরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় তিন পুলিশ কনস্টেবল আহত হয়েছেন।
এদিকে শিবিরের শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় নেতা শাহাবুদ্দিনকে হত্যার দাবি করে প্রতিবাদে রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলায় রবিবার সকাল ছয়টা হতে মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালন করা হবে। এসময় দাবি করা হয়, রাতে বন্ধুর বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে মটরসাইকেল করে ফেরার পথে কাটাখালি পৌরসভার সামনে পুলিশ শিবিরের ঐ তিন নেতার তাদের গতিরোধ করে গ্রেফতার করে। পরে পুলিশ শাহাবুদ্দিনকে নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যা করে এবং অপর দুইজনকেও গুলিবিদ্ধ করে আহত করে। অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার করে তাদের বিচারের দাবি জানিয়েছে দলটি।
