হরতাল-অবরোধের বিরূপ প্রভাব পড়েছে বিচারাঙ্গনে। নিন্ম আদালতে বিচারপ্রার্থী এবং সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারনে হাজার হাজার মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম চললেও হাইকোর্টে চলছে সীমিত আকারে।
৫০ টি বেঞ্চের মধ্যে মাত্র ১৪/১৫টি বেঞ্চে বিচারকাজ চলছে। ওইসব বেঞ্চে আইনজীবীদের গড় হাজিরের কারনে অধিকাংশ মামলাই মলতুবি রাখতে হচ্ছে।
ঢাকার সিএমএম আদালতে হরতাল-অবরোধ সংক্রান্ত মামলার জামিন ও রিমান্ডের শুনানিতেই অধিকাংশ সময়ই ব্যয় হচ্ছে, অন্য মামলা শুনানির সময় পাচ্ছেন না বিচারকরা। এর ফলে প্রতিদিনই মামলার জট বাড়ছে। বর্তমানে দেশের আদালতগুলোতে ২৮ লাখেরও বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
গত এক মাস ধরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকে চলছে অবরোধ-হরতাল। অতীতে হরতালের সময় সুপ্রিম কোর্টের বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হত না। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে আপিল বিভাগে হরতালের মধ্যেও বিচার কার্যক্রম চলছে। তবে যেসব মামলায় বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা দায়িত্বে রয়েছেন তাদের গড় হাজিরের কারনে মামলা মুলতুবি করতে হচ্ছে। হাইকোর্ট বিভাগেও নিয়মিত ৫০টি বেঞ্চ সচল রাখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে ৩১টি ডিভিশন বেঞ্চ, ১৮টি একক বেঞ্চ ও একটি বিশেষ বেঞ্চ রয়েছে। এসব বেঞ্চের মধ্যে মাত্র ১৪/১৫ টি বেঞ্চে বিচার কাজ হচ্ছে।
আইনজীবীরা বলছেন, বিচারপতিরা নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে নিয়মিত আদালতে আসতে পারছেন না। নিরাপত্তার অভাবে আদালতে আসতে ভয় পাচ্ছেন আইনজীবী এবং বিচারপ্রার্থীরাও। দূরপাল্লার পরিবহন না চলার কারনে গ্রামাঞ্চল থেকে বিচারপ্রার্থীরাও সুপ্রিম কোর্টে আসতে পারছেন না।
জানা গেছে, হাইকোর্টের রুলস অনুযায়ী সরকার ঘোষিত সাপ্তাহিক দু’দিন ছুটি, সরকারি ছুটি, আদালতের বার্ষিক ও গ্রীষ্মকালীন ছুটিসহ চলতি বছর সুপ্রিমকোর্টে ছুটি রয়েছে মোট ১৭৮দিন। বর্তমানে হাইকোর্ট বিভাগে ৫০টি বেঞ্চ রয়েছে। চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত টানা ৩২ দিন অবরোধ চলছে। অবরোধ চলার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে হরতাল ডাকা হয়েছে। এক হিসেবে জানা যায়, হাইকোর্ট বিভাগে অর্ধশত বেঞ্চে প্রতিদিন গড়ে নতুন-পুরাতন ৪/৫ হাজার মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়। গত এক মাস টানা অবরোধ থাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মামলার বিচার কাজ অনুষ্ঠিত হয়নি।
অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম ইত্তেফাককে বলেন, অবরোধ-হরতালের কারণে হাইকোর্টের অনেক বেঞ্চ বসছে। কিন্তু বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালত অঙ্গনে মিছিল-সমাবেশ করছে, যাতে বিচারকাজে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে কিছু সংখ্যক আইনজীবী আদালতের বারান্দায় শ্লোগান ও দরজায় লাথি মারছে। এটা ধ্বংসা্তক কার্যক্রম। এতে অনেক বিচারক আদালতে আসলেও তারা বিচারকাজে অংশ নিতে পারছেন না। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আপিল বিভাগের দুটি বেঞ্চ নিয়মিত বসছে। এতে মালার নিষ্পত্তির গতি বেড়েছে বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে উচ্চ আদালতসহ সারা দেশের বিভিন্ন আদালতে সাড়ে ২৮ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে গত প্রায় এক মাস ধরে নতুন করে যোগ হয়েছে অবরোধ-হরতাল। ধারাবাহিকভাবে এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকায় বিচার কার্যত্রক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে পুরো বিচার ব্যবস্থা।
