ব্রিসবেন থেকে সে অর্থে ভালো কোনো স্মৃতি নিয়ে যেতে পারলো না বাংলাদেশ দল।
উপমহাদেশীয় বিশ্বকাপজয়ী দলগুলো মাস কয়েক এই কন্ডিশনে কাটিয়ে দেওয়ার পর এখনও খাবি খাচ্ছে। তাই বাংলাদেশের প্রথম দুটি অনুশীলন ম্যাচেই পরাজয় হয়তো খুব অস্বাভাবিক নয়। তারপরও পরাজয় তো একটা বিস্মরণযোগ্য স্মৃতিই বটে। এই স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর রাতেই সিডনি পৌঁছে যাওয়ার কথা। এই স্মৃতির পাশাপাশি বাংলাদেশ দলের সঙ্গী হচ্ছে অবশ্য একটা বিতর্কিত আলোচনা—দলের ম্যানেজার ও কোচের দ্বন্দ্ব।
গুজব আকারে বাতাসে উড়তে থাকা এই খবর অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধাণ নির্বাহী নিজামউদ্দিন সুজন উড়িয়ে দিলেন। তিনি বললেন, এমন কোনো কিছু দলে থাকার কথা নয়, ‘আমরা যতদূর জানি, দলে এরকম কোনো সমস্যা নেই। দলের সবাই আন্তরিক ও পেশাদার। তারপরও বোর্ড সবসময়ই নজর রাখছে। প্রয়োজন হলে আমরা দেখবো।’
আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিপক্ষে ও ১২ ফেব্রুয়ারি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার কথা বাংলাদেশের। দুটি ম্যাচই সিডনির ব্ল্যাকটাউন অলিম্পিক পার্ক ওভাল।
একটি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচের পর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বলেছেন, তিনি আশাবাদী যে, এখানেই জয় পেয়ে যাবেন তারা। প্রথম দুটি অনুশীলন ম্যাচে পরাজয়টাকে খুব বড় করে দেখতে রাজি নন অধিনায়ক, ‘এটা ঠিক যে, পরাজয়টা কাঙ্খিত ছিল না। তবে বাস্তবতা, আমরা সেরা কম্বিনেশন পাওয়ার জন্যই ম্যাচ দুটো খেলেছি। জয়ের ব্যাপারটা মাথায় রেখে সেভাবে পরিকল্পনা করা হয়নি। ফলে আমি খুব হতাশ নই।’
মাশরাফির অবশ্য হতাশার সুযোগ ছিল তার ইনজুরি নিয়ে। পিঠের পেশীর টানে তিনি দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেননি। আর আরেক পেসার তাসকিন আহমেদের লেগেছে গোড়ালিতে। দু জন শুরুতে একটু ব্যাথা অনুভব করলেও গতকাল অস্ট্রেলিয়া থেকে টিম ম্যানেজমেন্টের একটা অংশ জানিয়েছে, দু জনই সুস্থ আছেন। যদিও দ্বিতীয় অনুশীলন ম্যাচে তাদের কাউকে নিয়েই ঝুঁকি নেয়নি ম্যানেজমেন্ট। এর বাদে ফিট হওয়ার লড়াইয়ে থাকা তামিম ইকবালকেও রাখা হয় দলের বাইরে।
তবে মাশরাফি বলেছেন, চোট নিয়ে তার নিজের ও তার দলের তেমন কোনো সমস্যা আর নেই। তিনি বরং বলেছেন, টানা খেলা ও অনুশীলনে নতুন করে ঝুকি না নেওয়ার জন্যই আগের ম্যাচটায় খেলেননি।
এরপর আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্যানাবেরায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের মূল বিশ্বকাপ লড়াই। তবে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি অপেক্ষা করছে এর তিন দিন পরে। সেখানে ব্রিসবেনের মাঠে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মোকাবেলা করবেন মাশরাফি-সাকিবরা।
