আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, বিএনপি নামক দানবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকা বিএনপির সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই আসে না। বিএনপি জোটের সঙ্গে সংলাপ নয়, জনপ্রতিরোধ গড়েই তাদের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি প্রতিহত করা হবে। জনগণের কাছেই তাদের পরাজয় হবে। তাদের আন্দোলন নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন নয়। জনগণ ইতিমধ্যে তাদের প্রতিরোধ করা শুরু করেছে। কারণ বিশ্বের কোনো দেশে সন্ত্রাসীরা জয়লাভ করতে পারেনি। জনগণই জয়লাভ করেছে। জনগণ আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে। জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তি কাজে লাগিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি।
গতকাল সোমবার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে দিনব্যাপী মতবিনিময় সভা শেষে তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশিদের উদ্বেগের কোনো গুরুত্ব নেই। কোনো ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদেশিদের উদ্বেগ প্রকাশ করা রুটিনওয়ার্ক। বিদেশি কূটনীতিকদের উদ্বেগ নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। এই সভায় কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ঢাকা মহানগরের সংসদ সদস্যবৃন্দ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম (আসাফো) ও নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ (আইনজীবী, চিকিত্সক, প্রকৌশলী), আলেম-ওলামা-মাশায়েখ এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
সংলাপ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি আন্দোলনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারছে। এই দলটি বর্তমানে সন্ত্রাসী দলে পরিণত হয়েছে। তাদের সঙ্গে কিসের সংলাপ? বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এখন আর রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি জঙ্গি নেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। রক্তের হোলি খেলায় নেমেছেন। তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে না। শুক্রবার রাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এদেশীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আইন-বিচার ও সংসদ সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, পত্রিকায় দেখেছি, অন্য একটি এজেন্ডা নিয়ে আমাদের অনেকে গিয়েছিল। এটার সঙ্গে রাজনীতির কোন সম্পর্ক নেই। ১৪ দলের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি তুলে ধরে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আগামীকাল রবিবার বিএনপি জোটের সহিংসতার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে ১৪ দলের উদ্যোগে দেশজুড়ে যে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে তার সময় একটু পরিবর্তন করা হয়েছে। ওই দিন বিকাল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আজ শনিবার বিকাল ৩টায় কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামের রাজারমাড় দীঘির উত্তর পাশে কাশিপুর ফুড প্যালেসের সামনের মাঠে ১৪ দলের উদ্যোগে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। দেশবাসীকে এসব কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান তিনি। সমপ্রতি বোমাবাজদের পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রত্যায়নের প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। ঘটনা সত্য হলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দি, জাসদের মইনউদ্দিন খান বাদল, শরীফ নূরুল আম্বিয়া, জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু সাঈদ খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের সিদ্দিকী আবু, দপ্তর সম্পাদক এম সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাম্যবাদী দলের দিলীপ বড়ুয়া, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, গোলাম কুদ্দুস, ফকির আলমগীর, পান্না কায়সার, শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, শমী কায়সার প্রমুখ।
বিএনপিকে সন্ত্রাস বন্ধ
করতে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র
বিকালে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ (আইনজীবী, চিকিত্সক, প্রকৌশলী), আলেম-ওলামা-মাশায়েখ এবং সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মতবিনিময় শেষে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিএনপি জোটের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সন্ত্রাস বন্ধ করতে বলেছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছেন, জনগণের শক্তি দিয়েই আমরা এই সন্ত্রাসকে মোকাবেলা করবো।