বৈধ ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা চোরাচালান!

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, ০১:৩৪

মিয়ানমারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রফতানি কাজে নিয়োজিত ব্যবসায়ীদের অনেকে ইয়াবা চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েছেন। তারা তাদের বৈধ ব্যবসার আড়ালে অবৈধভাবে ইয়াবার চালান দেশে আনছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কারণ, মিয়ানমারে যে ইয়াবার মূল্য ৩০ টাকা তা ঢাকায় পৌঁছালে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে মিয়ানমার থেকে বৈধ পণ্য আমদানির চেয়ে ইয়াবার মতো অবৈধ পণ্য চোরাচালানের দিকে অসাধু ব্যবসায়ীরা ঝুঁকছেন। কক্সবাজার-টেকনাফ থেকে সড়ক পথে ইয়াবা পরিবহন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় নৌপথে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হচ্ছে ইয়াবা।

মিয়ানমার থেকে মাছ, মসলা, কাঠসহ অনেক পণ্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে আমদানি হয়ে থাকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ সকল পণ্যসহ কম গুরুত্বপূর্ণ হরেক রকম পণ্য আমদানিকারক বেড়ে গেছে বলে জানা যায়। ব্যবসায়ীরা নিয়মিত বৈধ ব্যবসার কাজে মিয়ানমার যাচ্ছেন। এদের কতজন বৈধ পণ্য আনছেন কতজন অবৈধ কারবারের সাথে জড়িত তার কোন তথ্য সংশ্লিষ্টদের নিকট না থাকায় তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
মিয়ানমার থেকে আমদানি হচ্ছে প্রচুর পরিমাণ মাছ। মিয়ানমার থেকে মাছবাহী ট্রলার যেমন প্রতিনিয়ত চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী সংলগ্ন বাংলাবাজার ঘাট, ফিশারিজ ঘাট, সদরঘাট এলাকায় ভিড়ছে। আবার সমুদ্র থেকে আহোরিত মাছ নিয়ে বিপুলসংখ্যক ট্রলার বা যান্ত্রিক বোট কর্ণফুলী নদী এলাকায় আসছে। এ সকল ট্রলারে মাছের আড়ালে অন্য কিছু রয়েছে কিনা তা তল্লাশি করার তেমন সুযোগ নেই।
গত প্রায় এক বছর ধরে নৌপথে ইয়াবা চোরাচালান অতিমাত্রায় বেড়ে গেছে। নৌবাহিনী গত ৬ মাসে প্রায় ১৯ লাখ পিস ইয়াবা চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙর এলাকা থেকে আটক করেছে। এছাড়া সম্প্রতি র্যাব-৭ সেন্টমার্টিনের অদূরে একটি ফিশিং ট্রলার থেকে প্রায় ৩ লাখ ইয়াবা আটক করেছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে নৌবাহিনীর ১৫ লাখ পিস ইয়াবা আটক দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চালান। কিন্তু  এর সাথে সম্পৃক্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক ধরা পড়া ছোট-বড় প্রতিটি চালানের ক্ষেত্রে বহনকারীরাই ধরা পড়েছে। কিন্তু মূল চোরাকারবারী কিংবা এর সহায়তাকারীদের  কেউ ধরা পড়েনি।

এদিকে চট্টগ্রামের চোরাকারবারীদের মূল ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইয়াবা ট্যাবলেট ব্যবসা। মিয়ানমার থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট এক সময় টেকনাফসহ তত্সংলগ্ন এলাকার সমুদ্র এবং পাহাড়ি এলাকা দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ত। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ নৌপথে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর ব্যাপক তত্পরতায় চোরাকারবারীরা তাদের রুট পরিবর্তন করে ফেলে। সংশ্লিষ্টদের মতে রুট পরিবর্তন হলেও এ অবৈধ কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িতরা কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। বরং তাদের সাথে আরো বেশি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ সম্পৃক্ত হয়েছে। এমনকি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু অনেকে সম্পৃক্ততার নজির রেখেছেন। কারণ হিসাবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অল্প পুঁজি বেশি লাভ। কোনভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় ইয়াবা পৌঁছাতে পারলেই পোয়াবারো।