সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় পুঁজিবাজার ভালোভাবেই আক্রান্ত হয়েছে। গত সপ্তাহের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তিন কর্মদিবস সূচক বাড়লেও তা আশাব্যঞ্জক নয়। উপরন্তু যে দুই দিন দরপতন হয়েছে তার গভীরতাই তুলনামূলক বেশি। তাই সপ্তাহ শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক কমেছে ৩৯ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ সূচক কমেছে ১৫ পয়েন্ট। আর লেনদেন কমেছে প্রায় দেড় শতাংশ।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন—রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাচ্ছে—এ জন্য বাজারে দরপতন হচ্ছে। তবে শেয়ারদর কমতে কমতে তলানিতে নেমে আসায় সপ্তাহের শেষ দিকে কিছুটা শেয়ার কেনার আগ্রহ দেখা গেছে। এ জন্য তিন দিন সূচক কিছুটা বেড়েছে। তবে এখনো লেনদেন খুবই কম।
তথ্যে দেখা গেছে—সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭১ কোটি ৪১ লাখ ৮ হাজার টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। আগের সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ৮৫ কোটি ২২ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট। অর্থাত্, গত সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অংকে লেনদেন কমেছে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৪ হাজার টাকা। আগের সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন কমেছিল ২০৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া ৩২০টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৯৪টির, কমেছে ২০৪টির, দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টির এবং লেনদেন হয়নি ১টি কোম্পানির শেয়ারের। গত সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৪৮ কোটি ১১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। গত সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনের ৭৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ হয়েছে ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ার ঘিরে। আর ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং ‘এন’ ক্যাটাগরির কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরির ৪.৭১ শতাংশ।
গত সপ্তাহে অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক কমেছে ২৯ পয়েন্ট। আগের সপ্তাহ শেষে সিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক কমেছিল ১৮৮ পয়েন্ট। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৭১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৭৫টির, কমেছে ১৭১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৫টি কোম্পানির শেয়ারদর।
